নজরবন্দি ব্যুরো: সঙ্গীতজগতে নক্ষত্রপতন। প্রয়াত মহীনের শেষ ‘ঘোড়া’। চিরঘুমের দেশে চলে গেলেন বাপিদা ওরফে তাপস দাস। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। একেবারে লাস্ট স্টেজে চলছিল চিকিৎসা। অথচ শেষ রক্ষা হল না। রবিবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হল তাঁর। বয়স হয়েছিল সত্তরের কাছাকাছি। শিল্পীর মৃত্যুতে স্তব্ধ সঙ্গীত জগত।
আরও পড়ুন: প্রেসিতে পড়ো, প্রেমে পড়িও না! আজব ফতোয়া জারি বিশ্ববিদ্যালয়ের
দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন একসময়ের রেবেল চরিত্র তাপস দাস। অথচ শেষ জীবনে মারণ ব্যাধির কবলে পড়েন তিনি। চলছিল কেমোথেরাপি। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেমে গিয়েছিল মাঝখানে। তখন তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান সঙ্গীত জগতের অনেক পরিচিত শিল্পী এবং কলাকুশলীবৃন্দ। কর্কট রোগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছিলেনও তিনি। মাত্র মাস খানেক আগে মাইক হাতে মঞ্চে উঠে গানের পর গান করে যান তিনি। কিন্তু তবুও যেন শেষ রক্ষা হল না। বাপিদার প্রয়াণের সাথেই বাংলার ঐতিহাসিক ব্যান্ডও আক্ষরিক অর্থেই ইতিহাসে নাম লেখাল।

‘মহীনের ঘোড়াগুলি’ শুধু একটা বাংলা ব্যান্ড ছিল না কোন কালেই। ছিল বাঙালীর আবেগ। মহীনই প্রথম ব্যান্ড যারা গানের কথাকে অন্যমাত্রায় নিয়ে যায়। ‘শহরের উষ্ণতম দিনে’, ‘ভালো লাগে’, ‘সংবিগ্ন পাখিকূল’, ‘প্রিয়া ক্যাফে’, ‘পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে’ এসব গান তো শুধু গান নয়, আপামর বাঙালীর চেতনা, আমাদের বলতে না পারা কথারই নির্যাস।
১৯৫৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন বাপিদা। তিনি ছিলেন নারায়ণ চন্দ্র দাস ও জ্যোৎস্না দাসের চতুর্থ সন্তান। ছোটবেলায় মায়ের হাতেই হয় গানের হাতেখড়ি। এরপর ১৯৭৫ সালে তৈরি হয় ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’। একেবারে শুরু থেকেই ছিলেন বাপিদা। মহীনের অন্যান্য সদস্যরা অর্থাৎ, গৌতম চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ চ্যাটার্জী, রঞ্জন ঘোষাল, বিশ্বনাথ চট্টোপাধ্যায়, আব্রাহাম মজুমদার এবং তপেস বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই ছিলেন বন্ধু। একে একে সবাই মারা যান।

২০১৫ সালে তাই ‘মহীন এখন ও বন্ধুরা’ বলে একটি ব্যান্ড গঠন করেন বাপিদা। জীবনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত সেই ব্যান্ডটিকেই আঁকড়ে ছিলেন তিনি। গান লেখা থেকে সুর করা, সবই পারতেন তিনি। আর সবচেয়ে ভালবাসতেন গিটার বাজাতে। মহীনের ‘আদি’ ঘোড়া চলে যাওয়ায় শোকস্তব্ধ বাংলা সুর জগত।



