নজরবন্দি ব্যুরো: প্রেসিতে পড়ো, প্রেমে পড়িও না! অদ্ভুত ফতোয়া জারি শতাব্দী প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের। কলেজ জীবনে এসে প্রেম করাটাই স্বাভাবিক। তাই হয়ে আসছে কালের নিয়ম ধরে। তবে, প্রেম করাটা যে বাধ্যতামূলক তা একেবারেই বলছি না। কিন্তু প্রেমে নিষেধাজ্ঞা থাকাটাও কোথাও গিয়ে সমর্থনযোগ্য নয়।
আরও পড়ুন: পঞ্চায়েতের ভোট প্রচারে মমতা, শুরুতে উত্তরবঙ্গকেই বাছলেন নেত্রী!
সম্প্রতি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি একটি ফতোয়া জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রেম করা যাবে না। আর হাত ধরে ঘোরাঘুরি, ঘনিষ্ঠতা তো নৈব নৈব চ! কর্তৃপক্ষের তরফে চলছে কড়া নজরদারি। সর্বদা দেখা হচ্ছে সিসিটিভি। আর যুগল দেখলেই সরাসরি করা হচ্ছে গার্জেন কল!

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় একই স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। সেখানে প্রেমে ফতোয়া জারি করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কলকাতার বিদগ্ধ জনেরা। প্রেম আর বিপ্লব এই শব্দদুটি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যত সমার্থক ছিল একসময়। ধীরে ধীরে কমেছে প্রেসিডেন্সির রাজনৈতিক গুরুত্ব। ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে চিরকাল বামমনোভাবাপন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ইউনিট খুলেছে তৃণমূল, বিজেপি ছাত্র সংগঠনও। এবার প্রেম করলে ধড়পাকড়ের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদে নেমেছে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই।

কলেজ স্ট্রিটের বুকে অবস্থিত প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই শিরোনামে থেকেছে। শুধু পড়াশোনা তো নয় সংস্কৃতি, রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকে প্রেসিডেন্সি। কত ব্যতিক্রমী চিন্তা, প্রগতিশীল ভাবনা, নতুন বোধের জন্ম হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। সেখানে প্রেমে নিষেধাজ্ঞা থাকার মানে দাঁড়ায় ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এখন আগামী দিনে প্রেসিডেন্সির পড়ুয়ারা কি মনের সুখে প্রেম করতে পারবে নাকি বিগ ব্রাদারের মতো আচরণ করবে প্রেসিডেন্সি তা নিয়ে বিতর্ক চলবে।
প্রেসিতে পড়ো, প্রেমে পড়িও না! আজব ফতোয়া জারি বিশ্ববিদ্যালয়ের




