বৃষ্টিতে মাত্র ৫ ওভারের ম্যাচ। রান উঠল মোটে ৬২। অথচ শেষ বল পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। জাপানের বিরুদ্ধে মাত্র ২ রানে জিতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইতিহাস তৈরি করল শ্রেয়স আয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারত। এই জয় শুধু ম্যাচের ফল নয়, ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন মাইলফলক। জাপানকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ২০০টি পুরুষদের T20I ম্যাচ জয়ের নজির গড়ল ভারত।
সানো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ২০ ওভার থেকে কমিয়ে ৫ ওভারের করা হয়। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩২ রান তোলে। অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারই সর্বোচ্চ রান করেন। ১২ বলে তাঁর ১৬ রানের ইনিংস না থাকলে ভারতের স্কোর আরও কম হতে পারত।
জবাবে ৩৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জাপানও শুরু থেকেই চাপ তৈরি করে। ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩০ রান পর্যন্ত পৌঁছয় তারা। শেষ ওভারে জাপানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮ রান। কিন্তু অক্ষর পটেল নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২ রানে জয় পায় ভারত।
এই জয়ের সঙ্গেই ভারতের নাম উঠে গেল বিশ্বরেকর্ডের তালিকায়। ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম T20I জয় পেয়েছিল ভারত। সেই যাত্রা থেকে ২০ বছর পর ২০২৬ সালে জাপানের বিরুদ্ধে এল ২০০তম জয়। ২৯১টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেই এই মাইলফলকে পৌঁছল ভারত।
ভারতের ৫০তম T20I জয় এসেছিল ২০১৭ সালে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। ১০০তম জয় আসে ২০২২ সালে কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। এরপর ১৫০তম জয় আসে ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে গ্রস আইলেটে। আর ২০০তম জয় এল জাপানের বিরুদ্ধে সানোয়।
আরও উল্লেখযোগ্য হল, ভারতের T20I সাফল্যের গতি সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। প্রথম ৫০টি জয় পেতে ভারত খেলেছিল ৮৩টি ম্যাচ। ৫০ থেকে ১০০-তে পৌঁছতে লেগেছিল ৭২ ম্যাচ। পরের ৫০টি জয় এসেছে ৭০ ম্যাচে। আর ১৫০ থেকে ২০০-তে পৌঁছতে ভারত খেলেছে মাত্র ৬৬টি ম্যাচ। অর্থাৎ শেষ ৫০টি জয়ই এসেছে সবচেয়ে দ্রুত।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে জয়ের সংখ্যায় ভারতের পরেই রয়েছে পাকিস্তান। ২৯৯টি ম্যাচে পাকিস্তানের জয় ১৭৪টি। নিউজিল্যান্ড ২৬৭ ম্যাচে ১৩৭ জয় নিয়ে পরের স্থানে। দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩৫ ম্যাচে ১৩১ জয় পেয়েছে। ইংল্যান্ডের ২৩৩ ম্যাচে জয় ১৩০টি।
তবে জাপানের বিরুদ্ধে ভারতের এই ঐতিহাসিক জয় একেবারেই সহজ ছিল না। ভারতের তারকা ব্যাটিং লাইন-আপকে শুরু থেকেই চাপে রাখে জাপানের স্পিন আক্রমণ। অভিষেক শর্মা প্রথম বলেই আউট হন। সঞ্জু স্যামসন এবং ঈশান কিশনও বড় রান করতে পারেননি। ফলে মাত্র ৩২ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস।
ভারতের হয়ে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ওয়াশিংটন সুন্দর ও অক্ষর পটেল। ওয়াশিংটন দুটি উইকেট নিয়ে জাপানের রান তোলার গতি আটকে দেন। শেষ ওভারে অক্ষরের নিয়ন্ত্রিত বোলিং শেষ পর্যন্ত ভারতের জয় নিশ্চিত করে। জাপানের ব্যাটাররা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও ৩০ রানের বেশি যেতে পারেননি।
ম্যাচের শেষ ওভার নিয়ে একটি বিতর্কও তৈরি হয়। অক্ষর পটেলের একটি ডেলিভারি ওয়াইড দেওয়া নিয়ে মাঠে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। ওই মুহূর্তের ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে ব্যাটারের অবস্থান এবং বলের নাগালের বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত জাপানের বিরুদ্ধে ২ রানের এই জয় ভারতের কাছে হয়ে থাকল একটি ঐতিহাসিক রাত। মাত্র পাঁচ ওভারের ম্যাচে রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ জয়ের ক্লাবে প্রথম দল হিসেবে নাম লেখাল ভারত। শ্রেয়সদের এই জয় তাই স্কোরকার্ডের বাইরেও ভারতীয় ক্রিকেটের রেকর্ডবুকে বিশেষ জায়গা করে নিল।



