নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এই মুহুর্তে তদন্ত করছে সিবিআই ও ইডি৷ আদালতের নির্দেশে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে খোঁজ মিলেছে অবৈধ নিয়োগের৷ ইডির রিপোর্ট অনুযায়ী নবম-দশম স্তরে ৯৫২ জন এবং একাদশ-দ্বাদশ স্তরে ৯০৭ জন অবৈধ চাকরি প্রার্থীদের তথ্য উঠে এসেছে। এই অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া চাকরি প্রার্থীদের বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে আর কত দিন ধরে অপেক্ষা করতে হবে? প্রশ্ন তুলছেন চাকরি প্রার্থীরা।

তাঁদের বক্তব্য অবৈধ চাকরি প্রার্থীদের বিষয়ে আইনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। অথচ একই প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত হয়েও নিয়োগ পত্র পায়নি সাড়ে পাঁচ হাজার বৈধ চাকরি প্রার্থীরা৷ রাজ্য সরকার আইনের জটিলতার কারণ দেখিয়ে চাকরিতে নিয়োগ করেনি। এই সাড়ে পাঁচ হাজার বৈধ চাকরি প্রার্থীদের একটি অংশ গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ৭৭৩ দিন ধরে ন্যায্য চাকরি ফিরিয়ে আনতে ধর্ণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ধর্ণারত চাকরি প্রার্থীদের বক্তব্য, মেধাতালিকা ভুক্ত হয়েও চাকরিতে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বৈধ চাকরি প্রার্থীদের সরকার অবিলম্বে নিয়োগপত্র হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। বৈধ চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোথায় আইনের জটিলতা আছে ? একথা জানতে চাইছেন ধর্ণারত চাকরি প্রার্থীরা। তারা আরো জানিয়েছে যে আইন সকলের জন্য সমান। নবম-দ্বাদশের প্যানেলে ৯৫২ জন এবং ৯০৭ জন অবৈধ চাকরি প্রার্থীদের অংশ ব্যতীত কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া প্রায় ১৬ হাজার বৈধ চাকরি প্রার্থীদের বেতন তো স্থগিত হয়নি। তাদের জন্য আইনের জটিলতা নেই কেন ? নিয়োগপত্র না পাওয়া বৈধ চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনের জটিলতা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে কেন?
আইনি কারণ দেখিয়ে নিয়োগে বাধা, ১৬ হাজারের বেতন বন্ধের দাবিতে সরব আন্দোলনরত চাকরি প্রার্থীরা

চাকরি প্রার্থীদের দাবি, প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত অবৈধ চাকরি প্রার্থীদের স্হগিত রেখে প্যানেলে থাকা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বৈধ চাকরি প্রার্থীদের অবিলম্বে নিয়োগপত্র হাতে তুলে দেওয়া হোক। অথবা নিয়োগ পাওয়া ১৬ হাজার বৈধ চাকরি প্রার্থীদের বেতন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হোক। যেহেতু পুরো প্যানেলই বিচারের আওতায়, সেহেতু আইনের জটিলতা চাকরি প্রাপ্ত ১৬ হাজার, চাকরি না পাওয়া সাড়ে পাঁচ হাজার এবং অবৈধ নিয়োগ পাওয়া ৯৫২ ও ৯০৭ জন চাকরি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য করতে হবে। নচেৎ সরকারকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বৈধ চাকরি প্রার্থীদের অতি দ্রুত নিয়োগপত্র হাতে তুলে দিতে হবে।



