অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে শান্তির শীতল হাওয়া। ছাত্রদের পক্ষেই রায় দিল বাংলাদেশ সুপ্রিম। এদিন প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে এই মামলার শুনানি চলে। ফলস্বরূপ, মুক্তিযোদ্ধা কোটার হার কমিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এবার থেকে বাংলাদেশের ৯৩ শতাংশ আসনে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিনুদ্দিন জানিয়েছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে হাইকোর্টে রায় অবৈধ। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য সরকারি চাকরিতে পাঁচ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অন্যান্য শ্রেণির জন্য থাকবে আরও দুই শতাংশ সংরক্ষণ।’



বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, সে দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন না আগের মতো। আগে ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ পেতেন তাঁরা। এবার ৩০ শতাংশ থেকে কমে মুক্তিযোদ্ধা-সংরক্ষণ করা হয়েছে পাঁচ শতাংশ। অর্থাৎ, এখন থেকে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কেবল পাঁচ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য।
মাত্র ৭ শতাংশ সংরক্ষন, এবার থেকে বাংলাদেশের ৯৩ শতাংশ আসনে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে
স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার পর সরকারি চাকরি ও প্রশাসনিক পদে ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানদের। এরই সঙ্গে মহিলাদের জন্য ১০ শতাংশ, অনগ্রসর জেলার জন্য ১০ শতাংশ, সংখ্যালঘু ভূমিপুত্রদের ৫ শতাংশ এবং দিব্যাঙ্গদের জন্য ১ শতাংশ সংরক্ষণও চালু করা হয়। আজ সেই সব সংরক্ষনের অবসান হল। কার্যত আন্দোলন জয়ী হল বাংলাদেশের পড়ুয়াদের।



১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। শুরুতে সরকারি চাকরির ৫৬ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল। বাকি ৪৪ শতাংশে নিয়োগ হত মেধার ভিত্তিতে। এই ৫৬ শতাংশের মধ্যে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজনদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, বিভিন্ন জেলার জন্য ১০ শতাংশ, জনজাতিদের জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ সংরক্ষিত পদ ছিল।
২০১৮ সালে সংরক্ষণ সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় প্রধানমন্ত্রী হাসিনা নির্দেশ জারি করে মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ এবং জেলা খাতে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ বাতিল করে দেন। রাখা হয় শুধু জনজাতিদের ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের ১ শতাংশ সংরক্ষণ।
মুক্তিযোদ্ধা কোটার হার কমিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এবার থেকে বাংলাদেশের ৯৩ শতাংশ আসনে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে।

শেখ হাসিনার সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় সাত জন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। সেই মামলায় গত ৫ জুন হাই কোর্ট জানায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অবৈধ। আবার ফিরিয়ে আনা হয় আগের মতো সংরক্ষণ ব্যবস্থা। হাই কোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় হাসিনা সরকার। আজ সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল এবার থেকে বাংলাদেশের ৯৩ শতাংশ আসনে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। তবে যতক্ষনে এই রায় এল ততক্ষনে ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে কোটা আন্দোলনে!!







