নজরবন্দি ব্যুরোঃ নতুন একটি গবেষণায় সামনে এসেছে হাড়হিম করা কিছু তথ্য। রিসার্চে দেখা গেছে নুন হল স্ট্রেসের মূল কারণ। খাবারের পাতে অল্প-বেশি লবণ প্রায় সবাই খেয়ে থাকেন। আবার অনেকেই আছেন যাদের খাবারের পাতে লবণ ছাড়া চলেই না। খাবারে নুনের মাত্রা বেশি হলে যে কোনও মানুষের চাপ বেড়ে যায়। যা হার্টের সমস্যা তৈরি করে। এক গবেষণায় জানা গিয়েছে যে খাবারে অত্যধিক লবণ খেলে তা মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুনঃ প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বাড়িতে ঋতুপর্ণা কেন? আমন্ত্রণ না অন্যকিছু
শুনতে অবাক লাগলেও জেনে রাখা প্রয়োজন যে খাবারে বেশি মাত্রায় লবণ খেলে তা ৭৫ শতাংশ স্ট্রেস বৃদ্ধি করে। অতিরিক্ত লবণ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর পাশাপাশি বেশি লবণ খেলে আচরণেও পরিবর্তন আসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সারা দিনে মাত্র ৬ গ্রাম লবণ খাওয়া উচিৎ। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই প্রায় ৯ গ্রামের বেশি লবণ গ্রহণ করেন।

কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চে প্রকাশিক একটি সমীক্ষায় বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ওপর গবেষণা করেছিলেন। ইঁদুরটিকে উচ্চ লবণযুক্ত খাবার দেওয়া হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, ইঁদুরের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা ৭৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই রাসার্চই স্পষ্ট করে দেয় আমাদের খাবাই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক কতটা দায়ি। এই গবেষণায় অন্যতম সদস্য ছিলেন ম্যাথিউ বেইলি। তিনি এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যাসয়ের কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্স সেন্টারের রেনাল ফিজিওলজির অধ্যাপক।

প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য প্রস্তাবিত দৈনিক লবণ খাওয়ার পরিমান ছয় গ্রামের কম, তবে বেশিরভাগ মানুষই দিনে প্রায় ৯ গ্রাম পর্যন্ত লবণ খেয়ে থাকেন। যার কারণে মানুষ স্ট্রোক, স্ট্রেস, হার্ট অ্যাটাকের মত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। হার্ট ও সংবহনতন্ত্রের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত প্রভাব থাকা সত্ত্বেও উচ্চ লবণয়ুক্ত খাদ্য কিভাবে একজন ব্যক্তির আচরণকে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে খুবই কমই তথ্য ছিল এই রিসার্চে।
৭৫ শতাংশ স্ট্রেস বাড়ে লবণ খেলে, গবেষণায় সামনে এলো হাড়হিম কিছু তথ্য

লবণ সবচেয়ে সুস্বাদু খাবারের লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু পরিমিত লবণ খাবারের স্বাদ বাড়ায়। অতিক্ত নুন যেখন খাবার বেস্বাদ করে দেয়। তেমনই কম নুন যুক্ত খাবার খুব একটা সুদ্ধাদু হয় না। খাবারে সঠিক পরিমাণে লবণ দেওয়াই রাঁধুনীর সবথেকে বড় গুণ। কিন্তু যে পরিমাণ লবণ ব্যবহার করা হয় তার চেয়েও সমান আলোচিত একটি প্রশ্ন হলো- স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো লবণ কোনটি?



