কলকাতা: কলকাতায় এবারের ২১ জুলাই একেবারেই অন্যরকম। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর সভা, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-এর পৃথক কর্মসূচি, পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেস (West Bengal Congress)-এর শহিদ সমাবেশ। একই দিনে, মাত্র কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি বিরোধী রাজনৈতিক সমাবেশ—বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই ভিড় কি শুধু সভার ভিড়, নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে বড় রাজনৈতিক বার্তা?
সবচেয়ে বেশি জনসমাগম দেখা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায়। তবে তা বলে অন্য দুই সভা ফাঁকা নেই। মেয়ো রোডে ঋতব্রত শিবিরেও ধীরে ধীরে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়ছে। একই সময়ে শহিদ মিনার চত্বরে কংগ্রেসের সভাতেও জনসমাগম ভালই। অর্থাৎ বিরোধী ভোট ও সমর্থন তিনটি মঞ্চে ভাগ হয়ে গেলেও, উপস্থিতির পরিমাণ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
এই ২১ জুলাইয়ের আরও একটি দিক রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্যান্য বছরের মতো প্রশাসনিক পরিকাঠামো, বড়সড় প্রচার, কর্মীদের জন্য ব্যাপক থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা বা শহরজুড়ে দলীয় সাজসজ্জা—এবার অনেকটাই অনুপস্থিত ছিল। তবু তিনটি সভাতেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি বিরোধী রাজনীতির সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সংখ্যার বিচারে তিনটি সভাকে আলাদা করে দেখলে পূর্ণ ছবি ধরা পড়বে না। বরং তিনটি মঞ্চে উপস্থিত জনসমাগমকে একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, রাজ্যে বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক পরিসর এখনও সক্রিয় এবং সংগঠিত। যদিও শুধুমাত্র একটি দিনের সমাবেশ দেখে ভোটের ফলাফল বা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চিত্র নির্ধারণ করা যায় না, তবুও এটি বিরোধী শিবিরের মনোবল বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথম বড় কর্মসূচিতে এত মানুষের উপস্থিতি বিরোধী রাজনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। ক্ষমতা হারানোর পরও সংগঠনের ভিত পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি—এই বার্তাও উঠে এসেছে বলে তাঁদের মত।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই সমাবেশগুলির তাৎপর্য নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী শিবিরের ধারাবাহিক জনসংযোগ এবং মাঠে কর্মীদের উপস্থিতি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিতে পারে।
তবে এই মুহূর্তে এটাও মনে রাখা জরুরি, জনসমাগম কোনও নির্বাচনের ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। তবুও ২১ জুলাইয়ের তিনটি পৃথক মঞ্চে যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়েছেন, তা বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক আবহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে থেকেই যাবে।



