২১শে জুলাই ভার্চুয়াল সভার কমেন্ট বক্স বুঝিয়ে দিল ’২১ নির্বাচনে কি ঘটতে চলেছে! #Editorial

২১শে জুলাই ভার্চুয়াল সভার কমেন্ট বক্স বুঝিয়ে দিল ’২১ নির্বাচনে কি ঘটতে চলেছে! #Editorial

অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): ২১শে জুলাই ভার্চুয়াল সভার কমেন্ট বক্স বুঝিয়ে দিল ’২১ নির্বাচনে কি ঘটতে চলেছে! ২১ নামটার সাথেই আছে বিপ্লবের গন্ধ। একুশে শুনলে প্রথমেই আমাদের মনে পড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ শে ফেব্রুয়ারির কথা। আর রাজ্যের ক্ষেত্রে মনে পড়ে মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রজেক্টেড শহিদ দিবসের কথা। অবশ্য এই শহিদ দিবস একেবারেই অন্য ধাঁচের। শহিদ স্মরনে পাগলু ড্যান্স থেকে শুরু করে দেশাত্মবোধক গান সবই দেখেছেন রাজ্য বাসি। কিন্তু এবারের ২১শে জুলাই একটু বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারন আগামীবছর যখন রাজ্যে ২১শে জুলাই আসবে তখন রাজ্যে তৃণমূল শাসক হিসেবে তাঁদের শহিদ দিবস পালন করবে না বিরোধী হিসেবে তা বলতে পারছেন না অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাই।

আরও পড়ুনঃ চাবাহার রেল প্রজেক্ট থেকে কখনই সরে যায়নি ভারত, সাফ জানিয়ে দিল ইরান।

এবার একটু স্মৃতিরোমন্থন করে ইতিহাসের পাতা ওলটানো যাক। ২১শে জুলাই ১৯৯৩ ঠিক কি হয়েছিল? কি বলছে ইতিহাস। আজকাল পত্রিকায় ১৯৯৩-র ২৪শে জুলাই একটি খবর প্রকাশিত হয়। শিরোনাম ছিল —‘গুন্ডামি রুখতে গণি বসুর সঙ্গে’। সংবাদে জানা যায়, তৎকালীন কংগ্রেস নেতা এ বি এ গণিখান চৌধুরী নয়াদিল্লির বঙ্গভবনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন ২১শে জুলাইয়ের আগে। গণিখান চৌধুরী সেদিন পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা শক্ত হাতে রক্ষা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী যে ধরনের ব্যবস্থা নেবেন তাকে নিঃশর্তে সমর্থন জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন। জ্যোতি বসুকে গণিখান চৌধুরী বলেন, গুন্ডামি করে মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীকে ঢুকতে না দেওয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে না। আপনাকে আমি নির্বাচনের মাধ্যমে গদি থেকে টেনে নামানোর চেষ্টা করবো। আপনিও তার বিরোধিতা করবেন। কিন্তু কেউ যদি জোর করে আপনার চেয়ারটা কেড়ে নিতে চায় তা হলে সেটা হবে স্রেফ গুন্ডামি। এটা কোনভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও যে যুব কংগ্রেসের এই ধরনের বেপরোয়া ঘটনার সমালোচনা করেছেন তা জ্যোতি বসুকে গণিখান চৌধুরী জানান সেদিন।

মূল ঘটনাঃ স্বরাষ্ট্রসচিব হিসাবে মণীশ গুপ্ত সেদিনের ঘটনার বিষয়ে হাইকোর্টে ১৯৯৩-র ২রা আগস্ট একটি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। সেই হলফনামা অনুযায়ী, ওইদিন (১৯৯৩-র ২১শে জুলাই)-এ জমায়েতে ‘বহু সশস্ত্র দুষ্কৃতী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জড়ো হয়েছিলো’। সেদিন ১৩ জন যুবকের মৃত্যু হয়েছিলো। তিনি রিপোর্টে আরও লেখেন, ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সারা রাজ্যের কয়েক হাজার যুব কংগ্রেসকর্মী স্ট্র্যান্ড রোড, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ, এসপ্ল্যানেড রো ইস্ট এবং ব্রেবোর্ন রোডে জমায়েত হয়। মেয়ো রোডে ১৫ হাজার, ধর্মতলায় ১৫ হাজার, ব্রেবোর্ন রোডে, স্ট্র্যান্ড রোডে ১০ হাজার, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে ৭ হাজার জমায়েত ছিলো। যুব কংগ্রেস কর্মীরা মহাকরণের দিকে ছুটতে থাকে। ‘জনতা’ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাইপগান থেকে গুলি ছোঁড়ে। ইট, পাথর, সোডার বোতলও ছোঁড়া হয় যথেচ্ছ পরিমানে। পুলিশ তখন লাঠি চালায়। সাথে ৩৪১ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয় এবং রাইফেল থেকে ৭৫ রাউন্ড ও রিভলভার থেকে ৪৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।

মণীশ গুপ্তর হলফনামা অনুযায়ি, সেদিন ৩টি বাস পোড়ানো হয়েছিলো। ৩৫টি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছিলো। সব মিলিয়ে জখম হয়েছিলেন ২১৫ জনেরও বেশি পুলিশ। তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডি সি (সদর), ৭জন ডি সি, ১০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার রয়েছে। ৩৪ জন পুলিশকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ হাসপাতালে। তাঁদের অনেকেরই পাইপগানের গুলি এবং বোমার স্প্লিন্টার লেগেছিলো। তালতলা থানার সার্জেন্ট ডি কে ঘোষালের গুলি লেগেছিলো। এক সাব ইনস্পেক্টর কালাচাঁদ সমাদ্দারের শরীরে আঘাত ছিল বোমার। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাব ইনস্পেক্টর এ কে গাঙ্গুলিকে এস এস কে এম হাসপাতালের সামনে মেরে মাথা ফাটিয়ে, হাত ভেঙে দিয়েছিলো জমায়েতের কর্মীরা।আক্রান্ত, রক্তাক্ত হয়েছিলো পুলিশ। তাই গুলি চালিয়েছিলো। সেদিন সাংবাদিক পেটানোর কাজও হয়েছিল । দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ ধর্মতলায় স্কুটার আরোহী সাংবাদিক, সঈদ আহ্‌মেদকে মমতা ব্যানার্জির কর্মীরা ঘিরে ধরে মেরেছিলো। মারাত্মক আহত হন তিনি।

আশ্চর্য ব্যাপার হলো মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু আজও তৃণমূল জানে না ওই ঘটনায় মৃত ১৩ তম ব্যক্তিটি কে? তৃণমূলের ওয়েবসাইটে এখনও ওই ১৩ নম্বর জায়গার পাশে লেখা আছে —‘অ্যানোনিমাস’। অন্যদিকে রিপোর্ট দাতা সেই মণীশ গুপ্ত তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে হলেন তৃণমূল সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রী বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ! অন্যদিকে ‘২১ শে জুলাইয়ের তদন্ত কমিশন’-র সরকারি ঘোষণা হয়েছিলো ২০১২-র ১৭ই ফেব্রুয়ারি। ২০১৪-র ডিসেম্বরে কমিশন রিপোর্ট জমা দেয়। কমিশন সাক্ষ্য দিতে ডেকেছিল বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। কিন্তু যিনি সেই ‘অভিযান’-র উদ্যোক্তা, সেই মমতা ব্যানার্জিকে কমিশন ডাকেনি। কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চ্যাটার্জি তাঁর তদন্ত রিপোর্ট জানান, যে ১৩জনের মৃত্যু হয়েছিল সেদিন, তাদের মধ্যে একজনের গায়ে গুলির কোনও আঘাতই মেলেনি। সেই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ ‘সিরোসিস অব লিভার’। সাধারণত এই রোগটি বেপরোয়া মদ্যপানের কারণে হয়।

এবার ফেরা যাক বর্তমানে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১শে জুলাই কে সাথে নিয়ে এলেও কংগ্রেস ছেড়েছেন অনেকদিন। এখন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও বটে। আজ একুশে জুলাই শহিদ দিবসের ভার্চুয়াল মঞ্চ থেকে ৯৩ এর ‘হত্যাকারি’ শাসক সিপিএমের বিরুদ্ধে কার্যত নির্বাক থেকে বিজেপি কে আক্রমণ শানালেন দলনেত্রী। কি বললেন তিনি? “এত বড় সাহস, দিল্লির এক জন তাঁবেদার বা সুবেদার আমাকে ফোন করে বলছে, উপাচার্যদের শোকজ করবে। আমি বললাম, হাত দিয়ে দেখুন, ছাত্র আন্দোলন কাকে বলে, দেখতে পাবেন। ভুলেও যদি ওদের বিশ্বাস করো, তা হলে জীবনও যাবে, জীবিকাও যাবে। জনগণ সাবধান, আপনাদের করছি আহ্বান, বিজেপির সাথে আছে অনেক অনেক টাকা আর গান। মনে রাখবেন, ২১ মে বদলা নিয়ে বিজেপির জামানত জব্দ করে বুঝিয়ে দিতে হবে, বাইরে থেকে এসে বাংলাকে কব্জা করা যায় না।একটা ঘটনা ঘটলেই গাড়িগুলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে। রাস্তায় বসে পড়ছে। যেন ওর রাস্তা। যেন দিল্লি থেকে এসে রাস্তাগুলো বানিয়ে দিয়েছে।”

এদিকে ভার্চুয়াল সভা মানেই সোশ্যাল মিডিয়াকে অনেকটাই ব্যাবহার। আর সোস্যাল প্ল্যাটফর্ম এমন একটা মাধ্যম যেখানে লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারে বক্তার মনের জোর বাড়ে। কিন্তু কি দেখা গেল এদিন। হাজার হাজার মানুষ যারা দেখছিলেন অনলাইন সমাবেশ তাঁদের বেশির ভাগই রাজ্যের শিক্ষিত বেকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাইভ সভার কমেন্ট বক্সে ঝড় তুলল বঞ্চনার কাহিনী। কমেন্ট বক্সে অনেকে লিখলেন স্কুল সার্ভিস কমিশন দীর্ঘ ৭ বছর আপার প্রাইমারি #Upper_primary নিয়োগ সম্পন্ন না করে হাজার হাজার ছেলে মেয়ের জীবনকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিচ্ছে। মাননীয়ার নিকট বিনীত অনুরোধ আমাদেরকে এই চূড়ান্ত পথ যেন বেছে না নিতে হয় তার ব্যবস্থা করুন। ভালো থাকবেন। আমরা vrp আমাদের অনুরোধ. রাখুন আমাদের দাবি আমরা রাজ্যে সব প্রকল্পের উপর social audit চাই.. আমরা খুব অসহায়.. আমরা vbd (ডেঙ্গি) নিয়ে কাজ করছি সামান্য টাকায়.. প্লিজ

দিদি প্রণাম নেবেন,আজ যে এই যৌবন নিয়ে সামনে এগোনোর একটা প্রয়াস চলছে সেটা খুবই আশাব্যঞ্জক। আমি তাদের ই একজন, MSc Bed, পাস করে স্কুলে শিক্ষকতার স্বপ্ন দেখেছি। এবং আমাদের এই সংখ্যাটা নিতান্ত কম নয়, 20-25 লাখ এবং আমাদের সাথে জড়িত বা নির্ভরশীল আমাদের পরিবার এর সদস্য যোগ করলে সংখ্যাটা 1.5 – 2 cr কম নয়। কিন্তু বিগত 10 বছরে আমরা একবার ও ssc তে বসার সুযোগ পাইনি। কারণ এসএসসি হয়েছে শেষ 2016 তে। আজকে এই যুব সম্প্রদায় প্রায় ধ্বংসের দিকে। তাই আগামী তে এই যুব সাম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে চলার জন্য তাদের শিক্ষকতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হবে। এ জন্য নতুন SLST এর পরীক্ষা নিয়ে ভোটের আগে নিয়োগ সম্পন্ন করলে এই যুব সমাজ আবারও আস্থা ফিরে পাবে, এবং সমাজ কে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দয়া করে এই শিক্ষিত যুব সমাজের কথা টা ভুলে যাবেন না, এরা সংখ্যায় খুব একটা নগণ্য নয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিতদের হাজারো কমেন্টে ভরে উঠল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কমেন্ট বক্স। শহিদ তর্পনের দিনে রাজ্যের লাখো বেকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ইঙ্গিত দিয়ে দিল আগামী ২১শের নির্বাচনে ঠিক কি ঘটতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x