অক্সিজেন শেষ, দিল্লীর হাসপাতালে ২০ টি মৃত্যু দাঁড়িয়ে দেখলেন চিকিৎসকরা!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ অক্সিজেন শেষ, নিরুপায় শতাধিক স্বাস্থ্য কর্মী, নার্স, চিকিৎসক। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে দেখলেন ধিরে ধিরে থেমে গেল ২০ জনের হৃদস্পন্দন। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটল দিল্লীর জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালে। এখনও লড়ছেন ২১৫ জন। জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালের কর্ণধার ডি কে বালুজা জানিয়েছেন, সরকারি তরফে আমাদের জন্য ৩.৫ মেট্রিক টন অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই অক্সিজেন গতকাল সন্ধ্যা ৫টার মধ্যে আসার কথা থাকলেও আসেনি।

আরও পড়ুনঃ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা দাহ করার জায়গা, স্বজন হারানোর আর্তনাদে কাঁপছে দিল্লি

প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা দেরি করে মাঝরাতে এসে পৌঁছয় অক্সিজেন। ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। অক্সিজেন শেষ হয়ে গিয়েছে ততক্ষনে, ২০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী প্রাণ হারান চোখের সামনে। ডি কে বালুজা আরও বলেছেন অক্সিজেনের অভাব হলে এমন অনেক মৃত্যু দাঁড়িয়ে দেখতে হবে। এই মুহুর্তে শুধু তাঁর জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালেই মৃত্যুর সাথে লড়ছেন ২১৫ জন অতি সংকটজনক করোনা আক্রান্ত।

দিল্লীতে কমপক্ষে ৭টি হাসপাতালের অবস্থা প্রায় এক। আজ সকালে তীব্র সংকটের কথা জানিয়ে ট্যুইট করেছে মুলচন্দ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তাঁরা জানিয়েছে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে থাকা ১৩০ জন করোনা আক্রান্ত সময়ে অক্সিজেন না পেলে খারাপ খবর অবশ্যম্ভাবী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দ্বারস্থ হয়েছে। হাসপাতালের দাবি যা অক্সিজেন আচে তাতে আর ২ ঘণ্টা চালাতে পারবেন তাঁরা। একাধিক বার প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের চেষতা করেও ব্যার্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘”দিল্লিতে মারাত্মক অক্সিজেনের সংকট তৈরি হয়েছে। দিল্লির জন্য অক্সিজেনের কোটা ৩৭৮ মেট্রিকটন থেকে বাড়িয়ে ৪৮০ মেট্রিক টন করা হলেও দিল্লিতে প্রতিদিন প্রয়োজন ৭০০ মেট্রিক টনের। অক্সিজেন কোথা থেকে পাওয়া যাবে সেজন্য দিল্লিকে কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হয়। কেন্দ্রের তরফে এখন যে কোটা মঞ্জুর করা হয়েছে, তার বেশ কিছুটা অংশ ওড়িশা থেকে আসে। ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে যদি সড়কপথে অক্সিজেন সিলিন্ডার আনতে হয়, তাহলে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। কিন্তু দিল্লির এখন যা পরিস্থিতি তাতে অত সময় দেওয়া যাবে না। সেই কারণেই বিমানে অক্সিজেন নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”

তাঁর কথায়, “সব রাজ্যকেই একত্রিতভাবে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। একে অপরের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে হবে।দেশ একটা খুব সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে। এই পরিস্থিতিতে প্রত্যেক রাজ্য যদি নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, তাহলে দেশকে রক্ষা করা যাবে না। দেশের কথা আগে চিন্তা করতে হবে। এখনই সময় একে অপরকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার।তবেই দেশ বাঁচবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন