শুক্রবার রাতে সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। অবশেষে ৩ দিন পর কলকাতা হাই কোর্ট ১৪৪ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল। যদিও মঙ্গলবারও সারাদিন উত্তপ্ত দ্বীপাঞ্চল। চলছে শাসক বিরোধী তরজা। এদিন সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) যায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। যান বিজেপি য়াজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। পুলিশের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষ বাধে গেরুয়া কর্মীদের। সন্দেশখালির ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রতিবাদে কলকাতায় মিছিল করে বামেরা।
আরও পড়ুন: নয়া ফরমান জারি কেন্দ্রের, নির্বাচনের আগে মোদীর প্রচারমূলক নাটক অভিনয়ের নির্দেশ, অন্যথা বন্ধ অনুদান?


বিগত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শিরোনামে উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালি (Sandeshkhali)। তিন তৃণমূলনেতা শাহজাহান শেখ, উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে একজোট গ্রামবাসীরা। অভিযোগ খুব স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে শাসক দলের নেতাদের অত্যাচারের শিকার তাঁরা। বিশেষ করে, জোর জুলুম করে জমি আদায়, বিনা পারিশ্রমিকে কার্যোদ্ধার, মহিলাদের অসম্মান। কোথাও কোথাও উঠছে ধর্ষণের মতো মারাত্মক অভিযোগ।

এমতাবস্থায় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামের মহিলারা। সহ্যের সীমা পার হয়েছে বলে অভিযোগ। তাই এই তিন তৃণমূলনেতার গ্রেফতারির দাবিতে থানা ঘেরাও করেছিলেন তাঁরা। ভাঙচুর করা হয় শিবু হাজরা ও উত্তম সর্দারের বাড়ি-অফিস। শিবু হাজরার তিনটি পোলট্রি ফার্মে আগুন জ্বালিয়ে দেন উত্তেজিত জনতা। এরপরই সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) ১৪৪ ধারা জারি করে রাজ্য সরকার।



এখনও পর্যন্ত শাহজাহান শেখ বা শিবু হাজরা বেপাত্তা থাকলেও তৃণমূলের তরফে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে উত্তম সর্দারকে। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে বাম নেতা নিরাপদ সর্দারকে। তিনিই এই আন্দোলনের পথিকৃত বলে দাবি পুলিশের।
৩ দিন পর উঠল ১৪৪ ধারা, যদিও সারাদিন সরগরম সন্দেশখালি
অন্যদিকে, শুধুমাত্র বিরোধীদের সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্যই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এরকম অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন আইনজীবী শামিম আহমেদ। তাঁর মতে, সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম না মেনেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এদিন রাজ্যের আইনজীবিও কেন ১৪৪ ধারা জারি করা হল তার স্বপক্ষে যুক্তি দিতে পারেননি। ফলে, ১৪৪ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তই নিলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।

আজ সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে সুকান্ত মজুমদারের। তৃণমূলের অভিযোগ, শান্ত সন্দেশখালিকে নতুন করে অশান্ত করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। যদিও বিজেপি সিপিআইএম দুই দলই সন্দেশখালি (Sandeshkhali) ইস্যু নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আগামী ১৮ তারিখ আবার সন্দেশখালি যাবে তৃণমূল।







