লোকসভা নির্বাচনের আগে এবার নাট্যদলগুলির উপর নতুন ফরমান জারি করল কেন্দ্র সরকার। নির্দিষ্ট একটি নাটক অভিনয় না করলে অনুদান মিলবে না বলে অভিযোগ। এই নাটকের স্ক্রিপ্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথা উল্লেখ রয়েছে। নাটকটির নাম ‘লে আয়ে ওয়াপস সোনে কি চিড়িয়া’ যার বাংলা অর্থ, ‘সোনার পাখি ফিরিয়ে আনলাম’। রচয়িতা ললিত প্রকাশ। নাটকটি যদিও মাত্র ৬ পাতার। সময় ২০ মিনিটের। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার একটি ওয়েবসাইটে নাটকটির ভিডিও প্রকাশ করতে হবে।
আরও পড়ুন: গ্রেফতার না করলে তবেই হাজিরা দেব, আদালতে জানালেন সন্দেশখালির ‘বাঘ’!


একটা সময় শাসকের পৃষ্ঠোপোষকতাতেই শিল্প তৈরি হলেও নাটক যেন ছিল কিছুটা আলাদা অবস্থানে। বিশ্বের নানান প্রান্তে নাটককে ব্যবহার করা হয়েছে শাসকের বিরোধিতাতেই। নাটক ছিল প্রতিবাদের ভাষা। এক বিপরীতমুখী স্রোত। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে শাসকের তরফে কঠোর নির্দেশিকা দেওয়া হচ্ছে শাসকের প্রচার বা গুণকীর্তন করে নাটক অভিনয়ের জন্য। একই নাটকে সমস্ত অনুদানপ্রাপ্ত নাট্যদলকে অভিনয় করতে বলা হচ্ছে।

এক্ষেত্রে মূলত অনুদানপ্রাপ্ত নাট্যদলগুলিকেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় আগেও বিভিন্ন নাটক অভিনয়ের নির্দেশ আসে। কিন্তু সেগুলো মূলত সচেতনতামূলক নাটক। কিন্তু এবার যে নাটকটি দেওয়া হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। কেন্দ্রের এই নতুন ফরমান প্রসঙ্গে সমালোচনা করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।



নয়া ফরমান জারি কেন্দ্রের, নির্বাচনের আগে মোদীর প্রচারমূলক নাটক অভিনয়ের নির্দেশ, অন্যথা বন্ধ অনুদান?
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সমালোচনার পাশাপাশি ব্রাত্য বসু নাটকটির ছবিও দিয়েছেন। এই নাটকে কি বাংলার নাট্যদলগুলো অভিনয় করবে? এক্ষেত্রে কিন্তু একেক জন একেক রকম মনে করছেন। ব্রাত্য বসু নিজে যেমন এই নাটকে অভিনয় করবেন না বলেই জানিয়েছেন। বিরোধী তালিকায় রয়েছেন সংসৃতি-র দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, চেতনা-র নীল মুখোপাধ্যায়, জয়রাজ ভট্টাচার্য সহ বামপন্থী সেকুলার থিয়েটার দলগুলি। তবে, স্বনামধন্য নাট্য অভিনেতা পরিচালক গৌতম হালদার জানিয়েছেন, নির্দেশ যখন এসেছে তখন করতেই হবে কারণ এই অনুদান আমাদের প্রয়োজন!









