দুর্গাপুরের ১২০ মেট্রিক টন অক্সিজেন যাচ্ছে দিল্লি, বাংলা বঞ্চিত বলছেন মমতা

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দুর্গাপুরের ১২০ মেট্রিক টন অক্সিজেন যাচ্ছে দিল্লি। যত দিন যাচ্ছে উন্নতির বদলে অবনতি হচ্ছে। সমস্ত ব্যবস্থার পরও কোনভাবেই লাগাম পরানো যাচ্ছেনা পরিস্থিতিতে। উত্তর প্রদেশ থেকে মহারাষ্ট্র-দিল্লি, অক্সিজেনের অভাবে থেমে যাচ্ছে সাধারণের প্রাণ।  এমনিতেই গত কয়েকদিন ধরে গণচিতা জ্বলছে রাজধানীতে। এমনকি জায়গা নেই মৃতদেহ রাখার। চারপাশে শুধু আর্ত চিৎকার আর খোঁজ চলছে অক্সিজেন-বেডের।

আরও পড়ুনঃ অক্সিজেন নেই দেড় ঘন্টা! ধীরে ধীরে থেমে গেল চিকিৎসক সহ ৮ জনের প্রাণ

না পেয়ে বাড়িতেই প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। অনেকেই আবার প্রাণ হারাচ্ছেন হাসপাতালে এসেই। অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকছে একটা গোটা দেশ। আজ, শনিবার দিল্লির এক হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে প্রান হারিয়েছেন ওই হাসপাতালের এই ডাক্তার সহ ৮ জন রোগী। এই পরিস্থিতি দিল্লিকে অক্সিজেনের যোগান দিতে বাংলা থেকে যাচ্ছে সাপ্লাই। অক্সিজেন এক্সপ্রেসের কন্টেনারে ভরে আজই  ১২০ মেট্রিক টন অক্সিজেন পাড়ি দিয়েছে দেশের রাজধানীর উদ্দ্যেশ্যে।  বেলা ১১.৫০ মিনিটে এই অক্সিজেন এক্সপ্রেস ট্রেনটি দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

রাজ্যের একাধিক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা লিক্যুইড মেডিক্যাল অক্সিজেন তৈরি করছে, যার মধ্যে একটি দুর্গাপুরের স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া। রাজ্যের চাহিদা মিটিয়েই দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ইউনিটে তৈরি তরল অক্সিজেন দিল্লিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেল সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্দেশ্য। দুর্গাপুরের সাগরভাঙ্গা জোনাল সেন্টারের কন্টেনার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ৬টি কন্টেনারে তরল অক্সিজেন ভরে রেল রেকের মাধ্যমে দিল্লিতে পাঠানো হচ্ছে। প্রতিটি কন্টেনারে ২০ মেট্রিক টন করে তরল অক্সিজেন থাকছে। অর্থাৎ মোট ১২০ মেট্রিক টন তরল অক্সিজেন দিল্লি পৌঁছে যাবে।

তবে রাজ্যের অক্সিজেন বাইরে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। অবস্থা ভালো না বাংলার। এখনো নড় বিপর্যয় না হলেও শেষ হচ্ছে ভাড়ার।  পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ থেকেই মহানগরে চালু হচ্ছে অক্সিজেন পার্লার। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যের অক্সিজেন অন্যত্র সাপ্লাই দিচ্ছে কেন্দ্র।তাঁর মত  “আমাদের বাংলায় অক্সিজেন সাপ্লাই করত সেল। এখন সেই সংস্থার অক্সিজেন কেন্দ্র উত্তরপ্রদেশে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”

রাজ্যের এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেদের অক্সিজেন অন্যত্র নিয়ে গেলে রাজ্যবাসীকে অক্সিজেন দেবেন কিভাবে সেই প্রশ্নও  তুলেছিলেন তিনি। রাজ্যে অক্সিজেনের ঘাটতি রোধ করতে তিনি জানিয়েছিলেন, “আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেনটা তুলে নিয়েছি। আগে ১৫ হাজার সিলিন্ডার ছিল। আরও পাঁচ হাজার সিলিন্ডার নিয়েছি। এখন ২০ হাজার সিলিন্ডার রয়েছে। আরও যোগান বাড়াতে কথা বলেছি।” কেন্দ্রের স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণকে চিঠি দিয়েও তিনি অনুরোধ জানিয়েছিলেন রাজ্যের অক্সিজেন অন্যত্র না সরিয়ে নেওয়ার জন্য। বাংলা বারবার বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর