নজরবন্দি ব্যুরোঃ অক্সিজেন নেই দেড় ঘন্টা! ফের একই ঘটনা দেশের রাজধানীতে। আর এবার চোখের সামনে বাকিরা থেমে যেতে দেখেছেন এক এক করে ৮ জনের জীবন। যত দিন যাচ্ছে উন্নতির বদলে অবনতি হচ্ছে। সমস্ত ব্যবস্থার পরও কোনভাবেই লাগাম পরানো যাচ্ছেনা পরিস্থিতিতে। উত্তর প্রদেশ থেকে মহারাষ্ট্র-দিল্লি, অক্সিজেনের অভাবে থেমে যাচ্ছে সাধারণের প্রাণ।
এমনিতেই গত কয়েকদিন ধরে গণচিতা জ্বলছে রাজধানীতে। এমনকি জায়গা নেই মৃতদেহ রাখার। চারপাশে শুধু আর্ত চিৎকার আর খঁজ চলছে অক্সিজেন-বেডের। না পেয়ে বাড়িতেই প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। অনেকেই আবার প্রাণ হারাচ্ছেন হাসপাতালে এসেই। অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকছে একটা গোটা দেশ। আজ, শনিবার দিল্লির এক হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে প্রান হারিয়েছেন ওই হাসপাতালের এই ডাক্তার সহ ৮ জন রোগী।
তার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর অক্সিজেনের ট্যাঙ্কার এসে পৌঁছয় সেখানে। আজ দুপুরে অক্সিজেন শেষ হয়ে গিয়েছিল নয়াদিল্লির বাতরা হাসপাতালে। প্রায় ৩০০ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন সেখানে। আজ দুপুর থেকে শুরু হয় অক্সিজেনের অভাব। কিন্তু প্রজনীয় অক্সিজেন যায় অনেক দেরীতে। বাতরা হাসপাতালের মেডিক্যাল ডিরেক্টর এসসিএল গুপ্তা জানিয়েছেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আমরা প্রতিদিনই অক্সিজেনের অভাব দেখি হাসপাতালে। আমরা কোনও ভাবে রোজই পরিস্থিতি সামাল দিই।
শেষ মুহূর্তে অক্সিজেন পৌঁছে যায়। খুব দেরি হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু আজকে প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরি হয়ে যায় এবং রোগীদের প্রাণ আমরা বাঁচাতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এমন পরিস্থিতি চোখের সামনে দেখাটা অত্যন্ত দুঃখের। নিমেষে আমাদের সামনেই প্রাণগুলি নিভে যাচ্ছে, আমরা কিছুই করতে পারছি না। আমরা অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করেছিলাম কিছু সময়ের জন্য। কিন্তু প্রায় দেড় ঘণ্টা প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব অনেকটা বেশি সময়।’
অক্সিজেন নেই দেড় ঘন্টা! তার পরেই এই ঘটনার পর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে হাসপাতাল পক্ষ। অভিযোগ ‘‘দুপুর ১২টা বেজে ৪৫ মিনিটে অক্সিজেন পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়। দেড়টা নাগাদ অক্সিজেনের ট্যাঙ্কার এসে পৌঁছয়। সব মিলিয়ে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট বিনা অক্সিজেনে ২৩০ জন রোগী পড়েছিলেন।’’ এবং তার পরেই জানান নিজেদের সহকর্মী সহ মাওত ৮ জন রোগী মারা গিয়েছেন আজ অক্সিজেনের অভাবে।



