যুবভারতী কাণ্ডে প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ, বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠনের সুপারিশ, খাবার–জলের বোতল ঢোকা নিয়ে তদন্তের দাবি

লিয়োনেল মেসির সফরের দিন যুবভারতীতে নজরদারির ঘাটতির ইঙ্গিত তদন্ত কমিটির। দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও SIT গঠনের পরামর্শ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতীতে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিল মুখ্যমন্ত্রীর গঠিত কমিটি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়-এর নেতৃত্বাধীন এই কমিটি গোটা ঘটনায় নজরদারির ঘাটতির ইঙ্গিত দিয়েছে এবং বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠনের সুপারিশ করেছে।

মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে বিচারপতি রায় জানান, তদন্তের প্রথম পর্যায়েই একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছে। তাঁর কথায়, “স্টেডিয়ামের ভিতরে সাধারণত জলের বোতল বা খাবার ঢোকানোর অনুমতি থাকে না। অথচ মাঠে ও গ্যালারিতে ভাঙা চেয়ার, ভাঙা গেটের পাশাপাশি জলের ও ঠান্ডা পানীয়ের বোতল পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।”

রবিবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা যুবভারতীর মাঠ ও গ্যালারির একাধিক অংশ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। সেখানে দেখা যায়, কিছু জায়গায় চেয়ারের স্ক্রু ঢিলা ছিল কি না, সেগুলি সহজে ছোড়া যায় কি না— তা হাতে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। কমিটির মতে, এই বিষয়গুলি নিরাপত্তার দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিচারপতি রায় জানান, স্টেডিয়ামের ভিতরে স্টল বসানো হয়েছিল বলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে জানা গেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে খাবার ও জলের বোতল ঢুকল, তা এখনও তদন্তাধীন। প্রাথমিক ভাবে কমিটির মত, যাঁরা সেদিন দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সোমবার রাতেই এই প্রাথমিক রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মেসির সফর সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল মূলত পুলিশ এবং ক্রীড়া দফতরের উপর। সেই দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। এই দুই দফতরের কাছ থেকেই বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টে জানতে চাওয়া হয়েছে—ঘটনার দিন কারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, সফরের আগে কী ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং বিশৃঙ্খলা শুরু হওয়ার পর কেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করা হয়নি। কেন গ্যালারিতে থাকা পুলিশ তৎপর হয়নি, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

এই সব বিষয় খতিয়ে দেখতে SIT গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান বিচারপতি রায়। তাঁর কথায়, “SIT-এ কারা থাকবেন, তা সরকার ঠিক করবে। তবে সিনিয়র পুলিশকর্তাদের এই দলে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” সূত্রের খবর, বিধাননগর এলাকায় ঘটনা ঘটায় এবং বিধাননগর পুলিশই প্রাথমিক তদন্ত করছে—তাই স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই SIT গঠনের প্রস্তাব।

তদন্তের পাশাপাশি দর্শকদের স্বার্থের কথাও উল্লেখ করেছে কমিটি। যাঁরা চড়া দামে টিকিট কেটে মাঠে গিয়েও মেসিকে দেখতে পাননি, তাঁদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে।

সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী তদন্তের উপর। বিচারপতি রায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, “প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী করা যায় না। গভীর তদন্তেই সত্য সামনে আসবে।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত