যুবভারতী স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জারি হওয়া শোকজ নোটিসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লিখিত জবাব জমা দিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার-সহ তিন শীর্ষ আধিকারিক। সূত্রের খবর, নির্ধারিত সময়সীমা মেনেই তদন্ত কমিটির কাছে নিজেদের ব্যাখ্যা পাঠিয়েছেন তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, বিধাননগর পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমার এবং ক্রীড়া দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ কুমার সিনহাকে শোকজ করেছিল। কমিটির তরফে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল—২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে।


সূত্রের দাবি, ক্রীড়া দফতরের প্রধান সচিব তাঁর লিখিত বয়ানে উল্লেখ করেছেন যে, অনুষ্ঠান পরিচালনার যে নির্দিষ্ট সময়সূচি ও ধাপের কথা জানানো হয়েছিল, বাস্তবে তা মানা হয়নি। উদ্যোক্তারা ঘটনার দিন নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা কার্যকর করেন বলেও তিনি ব্যাখ্যায় তুলে ধরেছেন। তবে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং বিধাননগর পুলিশের কমিশনার তাঁদের জবাবে ঠিক কী বলেছেন, সে বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিয়োনেল মেসির উপস্থিতি ঘিরে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। হাজার হাজার দর্শক মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে টিকিট কাটলেও অভিযোগ ওঠে, গ্যালারি থেকে তাঁরা মেসিকে কার্যত দেখতেই পাননি। মাঠে নামার পর প্রায় ৬০–৭০ জনের ঘেরাটোপে পড়ে যান মেসি, যার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার অভাবের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা। এরপরই দর্শকদের একাংশের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। ঘটনার পর রাজ্য সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং পরবর্তী ধাপে শোকজ করা হয় শীর্ষ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের।


উল্লেখযোগ্য ভাবে, শোকজের আগে এই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। তবে তদন্ত কমিটির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পরেই তাঁকে ও আরও দুই শীর্ষ আধিকারিককে শোকজ করা হয়। এখন তাঁদের জমা দেওয়া ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই তাকিয়ে প্রশাসনিক মহল।







