১৮ মাসের অন্তর্বর্তী শাসনের অবসান ঘোষণা করলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণে পদত্যাগের কথা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন—গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার যে সংস্কৃতি গত দেড় বছরে গড়ে উঠেছে, তা যেন কোনও ভাবেই হারিয়ে না যায়। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে এই বার্তা দিয়েই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইউনূস বলেন, তাঁর সরকার শূন্য অবস্থা থেকে কাজ শুরু করেনি, বরং পূর্ববর্তী শেখ হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার ‘মাইনাস’ পরিস্থিতি সামলেই পথ চলা শুরু করতে হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়েই অন্তর্বর্তী প্রশাসন দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিদায়ী ভাষণে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর শহিদদের স্মরণ করে আবেগঘন বার্তাও দেন ইউনূস। তিনি জানান, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’-কে ‘জাতীয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শেষ করেছে তাঁর সরকার। দেশবাসীকে পরিবারসহ সেই জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার কীভাবে মানুষকে মানবিকতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, সেই ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে ইউনূসের বার্তা ছিল স্পষ্ট। তাঁর মতে, বাংলাদেশকে আর সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতির উপর নির্ভর করে এগোনো যাবে না। বরং দক্ষতা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তার জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং সর্বোপরি সততার প্রয়োজন—এই কথাই তুলে ধরেন তিনি।
বিদায়ের মুহূর্তে দেশবাসীর প্রতি তাঁর আহ্বান, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব এখন সবার। আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী সরকার সেই পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।



