উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে এখনও অন্যতম জনপ্রিয় মুখ যোগী আদিত্যনাথ। শনিবার গোন্ডা জেলার এক জনসভায় তারই আরও একবার প্রমাণ মিলল। মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে পৌঁছতেই চারদিক থেকে ভেসে এল ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘বুলডোজার বাবা কি জয়’ স্লোগান। জনতার উচ্ছ্বাসে কার্যত মুখর হয়ে ওঠে সভাস্থল।
শনিবার সকালে মা পাটেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর গোন্ডার চাকরৌ এলাকায় জনসভায় যোগ দেন যোগী আদিত্যনাথ। কাতরা এবং কর্নাইলগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে হাজার হাজার মানুষ এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই সভাস্থলে জনসমাগম বাড়তে থাকে এবং মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছনোর আগেই মাঠ ভরে যায় সমর্থকদের ভিড়ে।


সভাস্থলের চারপাশে ছিল বিজেপির পতাকার সমারোহ। যোগী মঞ্চে উঠতেই সমর্থকদের একাংশ ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাশাপাশি ‘বুলডোজার বাবা কি জয়’ ধ্বনিও বারবার শোনা যায়। উত্তরপ্রদেশে অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে ‘বুলডোজার বাবা’ নামেই পরিচিতি পেয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ।
মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁকে উপহার হিসেবে রামচন্দ্রের মূর্তি এবং গদা তুলে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মা শক্তির একটি মূর্তি স্মারক হিসেবে প্রদান করা হয়।
কৈশেরগঞ্জের সাংসদ নিজের বক্তব্যে যোগীকে ‘বুলডোজার বাবা’ বলে উল্লেখ করেন। সেই বক্তব্যের পরই জনতার মধ্যে আরও জোরালোভাবে স্লোগান ধ্বনিত হতে থাকে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের জনসভাগুলি বিজেপির সংগঠনগত শক্তির প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


নিজের ভাষণের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী গোন্ডার মানুষের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জেলার যুবসমাজ অত্যন্ত উদ্যমী, কৃষকরা পরিশ্রমী এবং এখানকার নারী ও কন্যারা প্রতিভাবান। উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে রাজ্যের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই বিজেপি জোরকদমে প্রচার শুরু করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যোগী আদিত্যনাথের সভায় বিপুল জনসমাগম দেখা যাচ্ছে। গোন্ডার এই জনসভাও সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



