যন্তরমন্তরে জনস্রোত, লাখো ‘ককরোচ’এর শক্তি প্রদর্শন! ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল হল দিল্লি

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ। ছাত্র-যুব থেকে প্রবীণদের অংশগ্রহণে জমল আন্দোলন, পাশে সোনম ওয়াংচুক।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির যন্তরমন্তরে শনিবার দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক বিক্ষোভের ছবি। ছাত্র-যুব থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক— বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে জমে উঠল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলন। আন্দোলনকারীদের একটাই দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। তবে দিনের শেষে সরকারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

নিট-ইউজি, সিবিএসই, সিইউইটি এবং এসএসসি-সহ একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই ক্ষোভকেই সংগঠিত আন্দোলনের রূপ দিয়েছে সিজেপি। শনিবারের কর্মসূচিতে হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান তুলে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

যন্তরমন্তরে জনস্রোত, লাখো ‘ককরোচ’এর শক্তি প্রদর্শন! ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল হল দিল্লি
যন্তরমন্তরে জনস্রোত, লাখো ‘ককরোচ’এর শক্তি প্রদর্শন! ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল হল দিল্লি

শুক্রবার রাতেই দিল্লিতে পৌঁছে যান দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি যন্তরমন্তরে গিয়ে তিনি আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও দাবিগুলি স্পষ্ট করেন। শুরুতে কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমোদন দেয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মসূচি চালানোর অনুমতি ছিল।

যন্তরমন্তরের সভামঞ্চ থেকে অভিজিৎ বলেন, এই আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদি। তাঁর অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলা হলেও প্রশাসন সেই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। বরং আন্দোলনের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হয়েছে। কর্মসূচি শেষে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, শনিবারের সমাবেশ ছিল কেবল শুরু, আগামী দিনে আন্দোলন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

যন্তরমন্তরে জনস্রোত, লাখো ‘ককরোচ’এর শক্তি প্রদর্শন! ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল হল দিল্লি

বিক্ষোভস্থলে অনেকের মুখে দেখা যায় আরশোলার মুখোশ। কেউ ফুল হাতে, কেউ বই নিয়ে, আবার কেউ সংবিধানের কপি হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেন। আন্দোলনের সমর্থনে উপস্থিত ছিলেন রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও। তিনি আগেই এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং অভিজিৎকে গ্রেফতার করা হলে অনশনে বসার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।

শুধু যন্তরমন্তর নয়, গোটা দিল্লিতেই নিরাপত্তা ছিল কড়া। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ৪০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের নিরাপত্তাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশের যুবসমাজের একাংশকে নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই মন্তব্যে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। তার পরেই ১৬ মে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র যাত্রা শুরু হয়। অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় সংগঠনটি। শনিবারের যন্তরমন্তরের জমায়েত সেই জনপ্রিয়তারই প্রথম বড় রাস্তার প্রদর্শন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর