ভারতের লুব্রিকেন্ট বাজারে বড় পদক্ষেপ নিল ইন্ডিয়ান অয়েল। কলকাতা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল সংস্থার নতুন প্রিমিয়াম লুব্রিকেন্ট ‘সার্ভো হাইপার সিরিজ’। আধুনিক ইঞ্জিন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শিল্পযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তৈরি এই নতুন প্রজন্মের পণ্য নিয়ে ইতিমধ্যেই শিল্পমহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ইন্ডিয়ান অয়েলের দাবি, উন্নত সিন্থেটিক বেস অয়েল এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে সার্ভো হাইপার সিরিজ। ফলে এটি শুধু ইঞ্জিনের কার্যকারিতা বাড়াবে না, জ্বালানি সাশ্রয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব এবং কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও এই লুব্রিকেন্ট নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। আধুনিক যানবাহন এবং শিল্পক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই সিরিজ বাজারে আনা হয়েছে।

শুধু কর্মক্ষমতাই নয়, গ্রাহক সুরক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ইন্ডিয়ান অয়েল। জাল পণ্য রুখতে প্রতিটি প্যাকেজে রাখা হয়েছে বিশেষ কিউআর কোড। স্ক্যান করেই গ্রাহকরা পণ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিং।
শনিবার কলকাতায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্থার বিপণন অধিকর্তা সৌমিত্র পি শ্রীবাস্তব বলেন, প্রযুক্তি, গুণমান এবং গ্রাহকের বিশ্বাস— এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে সার্ভো হাইপার সিরিজ। তাঁর মতে, এই নতুন প্রজন্মের লুব্রিকেন্ট ভারতের বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে সক্ষম হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইন্ডিয়ান অয়েলের ফরিদাবাদ গবেষণা কেন্দ্রের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এবং চেন্নাইয়ের মানালিতে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম সুসংহত লুব্রিকেন্ট উৎপাদন কেন্দ্রে তৈরি হচ্ছে এই পণ্য। ফলে উৎপাদন থেকে গুণমান নিয়ন্ত্রণ— প্রতিটি ধাপেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংস্থার বিস্তৃত বিপণন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশজুড়ে ৪৩ হাজারেরও বেশি রিটেল আউটলেটে পৌঁছে যাবে সার্ভো হাইপার সিরিজ। ফলে সাধারণ গ্রাহক থেকে শিল্পক্ষেত্র— সকলের কাছেই সহজলভ্য হবে এই নতুন প্রিমিয়াম লুব্রিকেন্ট। ইঞ্জিনের সুরক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভারতীয় বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা করল ইন্ডিয়ান অয়েলের এই উদ্যোগ।



