রাস্তায় বন্ধুর বা আত্মীয়ের গাড়ি নিয়ে বেরোচ্ছেন? ট্রাফিক চেকিংয়ে এক মুহূর্তের অসতর্কতাই আপনাকে ফেলে দিতে পারে বড় জরিমানার ঝুঁকিতে। ২০২৬ সালে ট্রাফিক আইন আরও কড়াকড়ি হওয়ায়, গাড়ির মালিক উপস্থিত না থাকলে চালকের কাছে বৈধ অনুমতিপত্র থাকা কার্যত বাধ্যতামূলক। এই পরিস্থিতিতে ‘ড্রাইভার অথোরাইজেশন লেটার’ হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি। সুখবর হল—এখন ঘরে বসেই অনলাইনে কয়েক মিনিটে এই লেটার তৈরি করা সম্ভব।
গাড়ির মালিকের নামের সঙ্গে চালকের নাম না মিললে অনেক সময় পুলিশ ধরে নেয় গাড়িটি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হচ্ছে বা চুরির সন্দেহ রয়েছে। এমন অবস্থায় ‘ড্রাইভার অথোরাইজেশন লেটার’ই চালকের আইনি সুরক্ষা। এটি একটি অফিসিয়াল অনুমতিপত্র, যেখানে গাড়ির মালিক লিখিতভাবে অন্য কাউকে নিজের গাড়ি চালানোর অধিকার প্রদান করেন। ট্রাফিক পুলিশ চেকিংয়ের সময় এই নথি দেখাতে পারলেই জরিমানা ও আইনি ঝামেলা এড়ানো যায়।


ড্রাইভার অথোরাইজেশন লেটার কেন জরুরি
ধরা যাক, গাড়িটি অমল বাবুর নামে রেজিস্টার করা, কিন্তু সেটি চালাচ্ছেন তাঁর বন্ধু বিমল বাবু। মালিক গাড়িতে নেই—এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশ্ন তুলতেই পারে। অথোরাইজেশন লেটার থাকলে প্রমাণ করা যায় যে মালিকের সম্মতিতেই গাড়ি চালানো হচ্ছে। ফলে এটি গাড়ির কাগজপত্রের মতোই গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি।
আবেদনের প্রয়োজনীয় তথ্য একনজরে
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পোর্টালের নাম | Anumodan Portal |
| আবেদন ফি | ₹১০০ |
| লেটারের বৈধতা | ১ বছর |
| প্রয়োজনীয় নথি | মালিকের আধার কার্ড, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট সাইজ ছবি |
অনলাইনে আবেদন করার ধাপে ধাপে পদ্ধতি (২০২৬ আপডেট)
১) পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন
প্রথমে anumodan.wb.gov.in ওয়েবসাইটে যান। ‘Register’ অপশনে ক্লিক করে গাড়ির আসল মালিকের আধার নম্বর দিন এবং OTP ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন। এরপর মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রোফাইল রেজিস্টার করুন।
২) লগইন ও লেটার জেনারেশন
রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে আধার নম্বর ও OTP দিয়ে লগইন করুন। ড্যাশবোর্ডে ‘Generate Driver Authorization Letter’ অপশন নির্বাচন করুন। পুনরায় আধার অথেনটিফিকেশন করলে মালিকের নাম ও ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভরে যাবে।


৩) গাড়ি ও চালকের তথ্য পূরণ
নিজের RTO/জেলার নাম নির্বাচন করুন। গাড়ির নম্বর দিয়ে ‘Get RC Details’-এ ক্লিক করলে ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বরের আংশিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য দেখাবে। এরপর চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর, নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ সঠিকভাবে লিখুন। শেষে চালকের একটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (JPG, ৫০০ KB-এর মধ্যে) আপলোড করুন।
৪) ফি পেমেন্ট ও সাবমিট
সব তথ্য মিলিয়ে ‘Submit’ করুন। তারপর ‘Pay ₹100’ অপশনে গিয়ে SBI ePay বা GRIPS গেটওয়ের মাধ্যমে UPI (PhonePe/Google Pay) বা QR কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করুন।
ডাউনলোড ও লেটারের মেয়াদ
পেমেন্ট সফল হলে পেজটি রিফ্রেশ করবেন না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাউনলোড অপশন আসবে। ডাউনলোড করা অথোরাইজেশন লেটারে মালিক ও চালক—উভয়ের ছবি ও পূর্ণ তথ্য থাকবে। মনে রাখবেন, এই লেটারের মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে মাত্র ১ বছর। মেয়াদ শেষ হলে একই পদ্ধতিতে নতুন লেটার তৈরি করতে হবে।
ট্রাফিক ফাইন ও অপ্রয়োজনীয় আইনি ঝামেলা এড়াতে, অন্যের গাড়ি চালানোর আগে আজই এই ড্রাইভার অথোরাইজেশন লেটার তৈরি করে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।







