নজরবন্দি ব্যুরোঃ সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আগে পাস হয়েছিল মহিলা সংরক্ষণ বিল। লোকসভায় মাত্র ২টি বিরোধী ভোট পড়ে এবং রাজ্যসভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয় এই ঐতিহাসিক বিলটি। আর আজ, শুক্রবার (২৯.০৯.২০২৩) রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর স্বাক্ষরে আইনে পরিণত হল মহিলা সংরক্ষণ বিল। ফলে, এবার থেকে লোকসভা ও বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য।
আরও পড়ুনঃ নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে নয়া মোড়, ED-র প্রধান আধিকারিককেই সরিয়ে দিল হাইকোর্ট
প্রসঙ্গত, সংসদের দুই কক্ষে পাস হবার পর বৃহস্পতিবার মহিলা সংরক্ষণ বিলে স্বাক্ষর করেন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। তারপরই শুক্রবার সকালে বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। বিকালেই কিন্তু এই বিলে স্বাক্ষর করে সেটিতে অনুমোদন দিয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

মহিলা সংরক্ষণ বিল পাসের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, “মহিলা সংরক্ষণ বিল আগেও পেশ করা হয়েছে। কিন্তু পাশ করানো হয়নি। ভগবান হয়তো এটা করার জন্য আমায় বেছে নিয়েছেন। মা-বোনেদের আশ্বস্ত করছি। এই বিলকে আইনে পরিণত করার জন্য আমরা সংকল্পবদ্ধ।’’

কিন্তু আসল কথাটা হল, এক্ষুনি এই বিলটি কার্যকর হচ্ছে না। আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই বিলটি কার্যকর হবে। নিয়ম অনুযায়ী আবার, আসন পুনর্বিন্যাসের আগে জনগণনা হওয়া প্রয়োজন। এদিকে জনগণনা হবার কথা আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনের পরে। অর্থাৎ এই বিল কার্যকর হতে পারে ২০২৯ লোকসভায় এবং তার আগে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায়।
প্রতীক্ষার অবসান! রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে আইনে পরিণত মহিলা সংরক্ষণ বিল
কংগ্রেস এই বিলকে সমর্থন জানালেও সনিয়া গান্ধী বলেছেন, এই বিল সর্বপ্রথম রাজীব গান্ধী আনেন। এই বিলের ফলে, বিধানসভা ও লোকসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তৃণমূলের তরফে বলে হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকেই তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশই মহিলা।
মোট কথা, বিরোধীদের কথায়, এই বিল পাস করে কোনও নতুন কাজ করেননি নরেন্দ্র মোদী। শুধুমাত্র আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে ‘চমক’ হিসাবে পাস করা হয়েছে মহিলা সংরক্ষণ বিল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই বিলকে ‘নির্বাচনী জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। কিন্তু আজ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সই করার পর এই বিলটি আইনে পরিণত হল।




