নজরবন্দি ব্যুরোঃ শীতের মরশুমের সঙ্গে নলেন গুড় যেন এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাই শীতের মরশুম শুরু হতেই কমলালেবুর পাশাপাশি নলেনগুড়ের খাদ্যসামগ্রীতে মনমজে বাঙালির। কিন্তু এবার ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসেও ঠিকমত দেখা নেই শীতের। যারফলে, টান ধরেছে খেজুরের রসে। তাই নতুন গুড়ের চাহিদে থাকলেও তাঁর জোগান দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে রস ব্যবসায়ীদের। সেই সুযোগেই শহরে রম রমিয়ে উঠেছে ভেজাল গুড়ের ব্যবসা।
আরও পড়ুনঃ দেশে দৈনিক সংক্রমণ নিম্নমুখী, ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্ক করার খুব বেশি কারণ নেই, জানাল WHO


শোনা যাচ্ছে, নতুন গুড় বাজারে আসতে দেরী করায় কার্যত ঝোপ বুঝে কোপ বসিয়েছে ভেজাল গুড়ের কারবার। অপরদিকে দুধের স্বাদ ঘোলা মেটানোর মত চিনি মেশানো গুড় নিয়েই নলেন গুড়ের স্বাদ মেটাচ্ছেন অনেকে।
এই নিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, মূলত আবহাওয়া বদলের কারনেই দেখা দিয়েছে নতুন গুড়ের সঙ্কট। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমানে খেজুরের রস না মেলায় আরও বেড়েছে এই সঙ্কট। তবে মেঘলা আকাশ কেটে গিয়ে আবারও আগের মত জাঁকিয়ে শীত পড়লেই ফের রসের স্বাভাবিক হবে এমনটাই আশা কছেন তাঁরা।
মূলত, নদিয়ার মাছদিয়া, কুলগাছি ও আসেপাশের একাধিক গ্রাম থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করে কৃষ্ণনগর, রানাঘাট সহ একাধিক বাজারে তা পাঠান রস ব্যবসায়ীরা। এমনকি নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই গুড়ের হাট বসতে শুরু করে মাজদিয়ায়, কিন্তু এবছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় এসে দাঁড়ালে ও এখনও ভালোভাবে দেখা যায়নি খেজুরের রস।


উঁকি দিচ্ছে শীত, ভেজাল গুড়ের ব্যবসা শুরু বঙ্গে

তাছাড়া অনেকেরই বলছেন, খাঁটি এক হাঁড়ি গুড় তৈরি করতে মূলত তিন হাঁড়ি রসের প্রয়োজন দেখা দেয়। সেইসঙ্গে জ্বালানি খরচ দিয়ে তা কেজিপ্রতি তে দাঁড়ায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার কাছাকাছি। কিন্তু চিনি মেশানো গুড়ের ক্ষেত্রে তা একেবারেই উল্টো। বলাবাহুল্য, জ্বালানি সহ সমস্ত খরচ দিয়ে চিনি মেশানো গুড়ের দাম হয়ে দাঁড়ায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকার কাছাকাছি। যা সহজেই সকলের নাগালে পাওয়া সম্ভব। তা দিয়েই বর্তমানে দোকানে ও বাড়িতে তৈরি হচ্ছে পায়েসন রসগোল্লা সহ গুড়ের একাধিক সামগ্রী।







