অর্ক সানাঃ রাজ্যের হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে অন্যতম। রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় অধীর রঞ্জন চৌধুরী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে নবগ্রাম আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন রাজ্য বিধানসভায়। এর তিন বছর পর ১৯৯৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ৯৫,৩৯১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। লোকসভা নির্বাচনে সাফল্যের পরে, তাকে মুর্শিদাবাদ জেলার জন্য কংগ্রেস সভাপতি করা হয়। সেই শুরু, এরপর ২০২৪ পর্যন্ত টানা জিতে আসছিলেন অধীর ওই একই কেন্দ্র থেকে। কিন্তু এবার যেন ইন্দ্র পতন। ভিন রাজ্যের ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে গেলেন বহরমপুরের টাইগার!
২৮ অক্টোবর ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর সময়কালে রেলওয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পদে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। রেলওয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে, তিনি রেলবোর্ড সদস্যদের সাথে সুরক্ষা, নিয়মানুবর্তিতা এবং যাত্রীদের সুযোগ সুবিধাগুলি নিয়ে সাফল্যের সাথে কাজ করেছিলেন। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হন। এরপরের সাফল্য, জুন ২০১৯ সালে।



২০১৯ সালে মোদী ঝড়ে দেশজুড়ে কার্যত উড়ে যাওয়া কংগ্রেস তাঁকে লোকসভায় কংগ্রেস নেতা হিসাবে নির্বাচিত করে। ২০১৯ সালে দল রাহুল গান্ধীকে বোঝাতে ব্যর্থ হওয়ার পরে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে এই কাজ দেয় কংগ্রেস হাইকমাণ্ড। ২৬ জুলাই ২০১৯ অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে পাবলিক অ্যাকাউন্টে সতেরোটি লোকসভা কমিটির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়। এহেন অধীর চৌধুরী কিনা ঘরে বসে থাকবেন নির্বাচন হেরে? এই প্রশ্ন থেকেই আসছে একাধিক সম্ভাবনার কথা।
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে হাইকমান্ডের নির্দেশ কার্যত অমান্য করে রাজ্যে INDIA জোটে সামিল হয়নি প্রদেশ কংগ্রেস। অধীর তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোট গড়ে তোলেন বামেদের সাথে। প্রদেশ সভাপতি অধীর, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম পাশাপশি দুটি সম্ভাবনাময় আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জয় সময়ের অপেক্ষা থেকে পরিণত হয় কমপক্ষে ৫ বছরের অপেক্ষায়! কিন্তু এবার?
তৃণমূল বিরোধীতার অগ্রণী মুখ, রাজ্যের একমাত্র পূর্ণমন্ত্রী হতে চলেছেন অধীর চৌধুরী?



রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যতনা সরব হয়েছেন অধীর তাঁর ১০ শতাংশও বিজেপি বিরোধীতা শোনা যায়নি তাঁর মুখে। নির্বাচন চলাকালীন একটি জনসভায় যখন মমতা বন্দোপাধ্যায় ঘোষনা করেন, তৃণমূল INDIA জোট কে সমর্থন করবে, কিন্তু রাজ্যে অধীরের কারনে জোট হলনা তখন কংগ্রেস হাইকমান্ড সরাসরি ধমক দেয় অধীর বাবুকে। জানিয়ে দেওয়া হয়, পার্টি লাইন না মানলে বেরিয়ে যেতে হবে! সেই সময় ব্যাকফুটে থাকা অধীর কে কার্যত টোপ দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সরাসরি প্রস্তাব দেন, বিভীষণের বাড়ি(কংগ্রেস) ছেড়ে রামের(বিজেপি) বাড়িতে আসার। এখন অধীর পরাজিত, ভোট বিন্যাস দেখলে বোঝা যাবে, তিনি পরাজিত বিজেপির কারনেই। কিন্তু তবুও তাঁর জন্যে দরজা ভাল্ভাবে খুলে রেখেছে বিজেপি। সুকান্ত মজুমদার তাঁর হেরে যাওয়াতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, অধীর দা সম্বোধন করে।
এবার আসা যাক মূল বক্তব্যে, সংসদীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা কার্যত অসম্ভব অধীর চৌধুরীর পক্ষে। এদিকে রাজ্যে ক্রমশ শুভেন্দুর নেতৃত্বে হাল খারাপ হচ্ছে বিজেপির। দিলীপ ঘোষ বাদ দিলে সেই অর্থে নেতা নেই যারা তৃণমূলের সঙ্গে সম্মুখ সমরে যেতে পারে। তাই ঘটনার মোড় ঘুরবে কোনদিকে, তা কেউ বলতে পারছেন না। যদিও বিজেপি সূত্রের একটি মন্তব্য, যেটা এখন লিখছি তা তোলপাড় ফেলতে পারে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন তাঁদের মধ্যে ১০ জন ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। এই ১০ টি আসনের মধ্যে রয়েছে ত্রিপুরার বিপ্লব দেবের আসনটিও।
বিজেপি সূত্রে খবর, ত্রিপুরা থেকে অধীর চৌধুরীকে সংসদে পাঠানোর কথা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তিনি যাতে সর্বভারতীয় ক্ষেত্র, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে কাজ করতে পারেন তাই তাঁকে দেওয়া হতে পারে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা। এখন দেখার পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ নির্বাচনে বিজেপি-র জন্যে ভগীরথের কাজ অধীর করতে পারেন কিনা! তবে সবই সম্ভাবনা… যদিও সব চরিত্র কাল্পনিক নয়।







