প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন সাংবাদিক সম্মেলন করেন না— এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয়। এবার সেই প্রসঙ্গেই ব্যাখ্যা দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। শনিবার বিদেশ মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক রুদ্রেন্দ্র ট্যান্ডন বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী এমন একজন নেতা, যিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সফর চলাকালীন এক সাংবাদিক সম্মেলনে এক বিদেশি সাংবাদিক ভারতীয় প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চান, প্রধানমন্ত্রী মোদী কেন নিয়মিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন না।
প্রশ্নের উত্তরে রুদ্রেন্দ্র ট্যান্ডন প্রথমেই স্পষ্ট করেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মন্তব্য করা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা কর্মপদ্ধতি নিয়ে মত প্রকাশ করা তাঁর পক্ষে সমীচীন নয়।
তবে বিষয়টির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্যান্ডন জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর যোগাযোগের ধরন অন্যরকম। তাঁর মতে, মোদী এমন এক রাজনৈতিক নেতা, যিনি জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকেই বেশি গুরুত্ব দেন এবং মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যোগাযোগের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ যোগাযোগে বিশ্বাস করেন।
ট্যান্ডনের বক্তব্য, ভারতীয় রাজনীতির দীর্ঘ ঐতিহ্যেও বহু নেতা তাঁদের নির্বাচকমণ্ডলীর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বজায় রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীও সেই ধারা অনুসরণ করেন এবং জনগণের কাছে নিজের বক্তব্য সরাসরি পৌঁছে দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেন।
এই প্রসঙ্গে বিজেপিও অতীতে একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে। দলের মতে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক মাধ্যম, বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ‘মন কি বাত’-এর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি দেশের মানুষের কাছে পৌঁছতে পারেন। সেই কারণেই এই ধরনের যোগাযোগ পদ্ধতিকে বেশি কার্যকর বলে মনে করে দল।
তবে বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই বিতর্কের মধ্যেই বিদেশ মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।



