নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভোট পরবর্তী হিংসা আর তার প্রতিকার চেয়েই গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃতীয় বারের জন্য শপথ নিচ্ছিলেন, তখনই ধর্নায় বসেছিলেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। উপস্থিত ছিলেন জে.পি.নাড্ডা। তার পরেও ঘটনা খতিয়ে দেখতে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই রাজ্যে এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ৪ সদস্যের দল। তবে এই ঘটনায় এতো তৎপরতায় কার্যত অবাক মমতা, ভাবছেন কেন্দ্র যদি ভ্যাকসিন শেষ হলে এমন তৎপরতা দেখাতো।
আরও পড়ুনঃ টানা ৫ বারের বিধায়ক এবার মন্ত্রী হোক বাংলার, প্রিয় মুখ্যমন্ত্রীকে আর্জি শ্যামপুর বাসীর
গত ২ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে বাংলার বিধানসভার নির্বাচন। তাতে গত কয়েকমাস ধরে বেজেপি নেতা মন্ত্রীরা যে গেরুয়া ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তার উল্টো ঘটনা ঘটেছে বরং। ২৯২ আসনের ভোট গণনায় বিজেপি ১০০ পেরোতে পারেনি। অন্য দিকে সবকিছু পিছনে ফেলে বাংলায় ২০০ এর বেশি আসন পেয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরেছে মমতার মা-মাটি-মানুষের সরকার। ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজ্য জুড়ে বিক্ষিপ্ত হিংসার চিত্র ফুটে উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া খবর পরে ভুয়ো বলেও প্রকাশ পেয়েছে। রাজ্য জুড়ে ভোট পরবর্তী হিংসার কারন জানতে চেয়েছিলো স্বরাস্ট্রমন্ত্রক। অন্যদিকে গতকাল ফের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শপথ নিয়েই তিনি জানিয়েছিলেন প্রথম কাজ রাজ্যে কোভিড পরিস্থিতির মোকাবিলা করা। তার পরেই তিনি জানান, রাজ্যের হিংসা বন্ধ করতে, নইলে আইন আইনের পথে চলবে। ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, গত কয়েক মাস সব দায়িত্ব ছিলো নির্বাচন কমিশনের হাতে, সেই সময়েই হচ্ছে যত রাজনৈতিক হিংসা। ক্ষমতায় ফিরেই সব সামলে নেবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তার পরেও ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্য কে গতকাল ফের স্বরাস্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে করা বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে কারণ ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে অবিলম্বে রিপোর্ট না পাঠালে বিষয়টি গুরুতর ভাবে দেখা হবে। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার একটি টুইটও করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
তার আগেই রাজ্যপালকে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছন প্রধানমন্ত্রীও। ভোট পরবর্তী হিংসা, তার তদন্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে ৪ সদস্যের দল গঠন করা হয়েছে। গঠন করেছেন খোদ অমিত শাহ। সূত্রের খবর অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের অফিসার ওই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সকালেই সেই দল পৌঁছেছে নবান্নে, খতিয়ে দেখছেন আক্রান্তদের পরিস্থিতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা। সন্ধ্যায় গিয়েছেন ভাটপাড়ায়। দেখা করেছেন বিজেপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে। তবে তার আগেই মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন তাঁর অবাক হওয়ার কথা। মমতার কথায় রাজ্যে যখন ভ্যাকসিন ছিলনা তখন আসেনি, যখন হাথরাসে দুর্ঘটনা হয় তখন কেউ আসেনি, যখন দিল্লিতে দাঙ্গা হয় তখনও সময় হয়না, অথচ বাংলায় শপথের ২৪ ঘন্টার মধ্যে উপস্থিত হয়ে যায় কেন্দ্রীয় দল।
তাঁর কথায় গতকাল পৌনে ১১টায় শপথ নিয়েছি, তার আগেই চিঠি, ২৪ ঘণ্টা না কাটতেই কেন্দ্রের দল, এমনটা আগে দেখিনি। এই অতি তৎপরতায় যে তিনি অবাক তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। তবে আজকের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী এও জানিয়েছেন, বাংলার যেসব জায়গায় বিজেপি জিতেছে রাজনৈতিক হিংসা সেখানেই প্রকাশ পাচ্ছে। এই বিষয়ে গেরুয়া শিবিরকে নিজেদের হার মেনে নিতেও বলেছেন তিনি।



