টানা ৫ বারের বিধায়ক এবার মন্ত্রী হোক বাংলার, প্রিয় মুখ্যমন্ত্রীকে আর্জি শ্যামপুর বাসীর

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: টানা ৫ বারের বিধায়ক, নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বিপুল ব্যবধানে জিতে এসেছেন। রাজনীতি করেছেন আবেগ আর সততা দিয়ে। মানুষের জন্য কাজ করেছেন নিষ্ঠা দিয়ে। পেশায় শিক্ষক আর প্যাশনে রাজনীতিবিদ কালীপদ মন্ডল এই
নিয়ে টানা ৫ বার জিতলেন শ্যামপুর বিধানসভা থেকে।

আরও পড়ুনঃ ২০২১ বিধানসভার ফলাফল বিশ্লেষণ, কলমে মানস দে।

- Advertisement -

সমীক্ষা বলে দুর্নীতির দাগ মুক্ত প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের তালিকা তৈরি হলে প্রথম ৫ জনের মধ্যে আসবে কালীপদ মণ্ডলের নাম। প্রবীণ শিক্ষক, সারাজীবন আদর্শ নিয়ে বেঁচে থাকা এবং অন্যকে বাঁচতে শেখানো কালীপদ বাবু কিন্তু রাজত্ব করছেন ২০ বছর ধরে, এবার আরও ৫ বছরের পর হিসেব দাঁড়াবে ২৫। কিন্তু দোর্দন্ডপ্রতাপ বিধায়ক বলতে যেমন টা বোঝায় তেমনটা তিনি নন। তৃণমূলের জন্ম লগ্ন থেকেই আছেন রাজনীতিতে, লড়েছেন এবং জিতেছেন বিপুল ব্যবধানে।

অথচ এই দীর্ঘ সময় কালে সাধারণ মানুষ থেকে প্রতিপক্ষ কেউ কখনো তাঁর বিরুদ্ধে ভোট লুঠ বা বুথ দখলের অভিযোগ আনতে পারেননি। কোনো প্রতিপক্ষ অভিযোগ তোলেননি তাঁর বিরুদ্ধে। শ্যামপুরের মানুষ অবাক হয়ে বিধায়ককে দেখেন না, সিকিউরিটি নিয়ে নয়, তাঁদের বিধায়ক তাঁদের পাশের সিটে বাসে চড়ে যান আসেন। ভোটের দুমাস আগে গিয়ে ভোট চাননা কখনোই, শ্যামপুরের অলি গলি চা দোকানে সকাল বিকেল এমনই দেখা মেলে। পাশে বসিয়ে সমাধান দেন যেকোন মুশকিলের।

তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই আছেন দলের সঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্তদের মধ্যে অন্যতম মানুষ তিনি। ২০০১-২০০৬-২০১১-২০১৬ টানা জিতের রেকর্ড না ভেঙে এবার জয়ের মার্জিন বরং বাড়িয়েছেন কিছু। ২০১১ সালে ৫৬.৬৪ শতাংশ ভোট, ৯৯ হাজার ৫০১ জনের ভোট নিয়ে জয়ী হয়েছিলেন, দ্বিতীয় স্থানের থেকে এগিয়ে ছিলেন ৩০ হাজারের বেশি ভোটে। অন্যথা হয়নি ২০১৬ তেও। ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে হারিয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রার্থী অমিতাভ চক্রবর্তীকে। বাম কংগ্রেস সব মিলিয়ে অমিতাভ বাবু পেয়েছিলেন ৮২ হাজার কিছু ভোট। ২০১৯ সালের মোদী ঝড়ে বাংলার বিভিন্ন জায়গার ঘাসফুলেরা নুয়ে পড়েছিল তখনও উলুবেড়িয়া লোকসভার তৃণমূল প্রার্থীকে লিড দিয়েছিলেন কালীপদ মন্ডলই। ২০২১ এর নির্বাচনেও সংযুক্ত মোর্চার হয়ে কালীপদ মণ্ডলের বিপরীতে লড়েছেন অমিতাভ বাবু। আর বিজেপির অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তী।

তবে বিজেপির প্রার্থীর ওপর বেশ ভালো আশা রাখছিল গেরুয়া শিবির। শুভেন্দু অধিকারীর ছায়া থাকার পরেও কোনো ভূমিপুত্রকে প্রার্থী না করে দুর্নীতি মুক্ত কালীপদ মণ্ডলের বিপরীতে বিজেপি দাঁড় করিয়েছিল অভিনেত্রী তনুশ্রীকে। আদর্শের প্রতীক মাস্টার মশায়কে এই লড়াইয়ে হারাতে কম কাঠ খড় পোড়াননি অভিনেত্রী। রোদে গরমে টোটো চড়ে প্রচার থেকে চায়ের দোকানে গিয়ে চা বানানো কম কিছু করেননি। টিভির পর্দায় দেখা অভিনেত্রীকে গলির মুখে দেখে ক’মাস ধরে ভিড় উপচে পড়েছিল পাড়ায় পাড়ায়। তবে ভোট ব্যাংকে সেই ভিড় দেখা যায়নি।

- Advertisement -

অন্যদিকে গত দুবছরে শ্যামপুরেই থাকছেন অমিতাভ বাবু। সব কিছুর বাইরে যেখানে গোটা বাংলা জুড়ে সকলের মুখে ঘুরছিল ভূমিপুত্র ফ্যাক্টরের কথা। সেখানে শান্ত, রোজকার চায়ের দোকানে বসা কালীপদ মন্ডল চুপি হেসে জিতে গিয়েছেন সেই বাজি। অন্যবারের থেকে বেশি ব্যবধানে। স্টার ফ্যাক্টর নিয়ে হেরেই ফিরেছেন তনুশ্রী। তবে শ্যামপুরের মানুষ তাতে অবাক কিছু হননি। তাঁরা তো ভরসা রেখেছিলেন কালী বাবুতেই। নিশ্চিত ছিলেন জয় নিয়ে। তবে এতদিনের মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বস্ত প্রার্থীর জন্য এবার তাঁর হয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি রাখছেন তাঁরা। এতবারের জেতা কালীবাবু। টানা ৫ বারের জয়ী বিধায়ক। তবে এবার তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান শ্যামপুরের সকলে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন পৌঁছে দিতে চাইছেন, এতবারের আদর্শ নিয়ে নিজেকে এবং সকলকে জিতিয়ে দেওয়া কালীবাবু এবার মন্ত্রী হোক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর