নজরববন্দি ব্যুরোঃ একাদশে পাওয়া যাবে কি পছন্দের বিষয়, উঠছে প্রশ্ন। অতিমারি পর্বের মাধ্যমিকে একশো শতাংশ ছাত্রছাত্রীর পাশ করেছে। কিন্তু সেখানেই শুরু হচ্ছে নতুন চিন্তা। তা হল ওই বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি নিয়ে। তাই উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলিতে একাদশ শ্রেণির আসন বাড়ানো হতে পারে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস।
আরও পড়ুনঃ একদিনে লাফিয়ে বাড়লো দৈনিক সংক্রমণ, মৃত্যু ছাড়ালো ৩ হাজারের গণ্ডি
মধ্যশিক্ষা পর্ষদ মঙ্গলবার মাধ্যমিকের ফল ঘোষণার পর প্রশ্ন ওঠে, এত ছাত্রছাত্রীর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে অসুবিধা হবে না তো? ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ কি আদৌ পাবে? গ্রামাঞ্চলে বহু স্কুলেরই পরিকাঠামো ভাল নয়। পর্যাপ্ত ক্লাসরুম নেই। অনেক স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকেরও অভাব। এই সব ঘাটতি সামলে স্কুলগুলি এত বেশি পড়ুয়ার ভর্তির চাপ নিতে পারবে?
এই প্রসঙ্গে মহুয়াদেবী জানান, অতিমারি আবহে মাধ্যমিকে পাশের হার যে বাড়বে, সেটা অনুমান করে তাঁরা আগে থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করে রেখেছেন।

সংসদ এ দিনই একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, উচ্চ মাধ্যমিকে অঙ্ক, স্ট্যাটিস্টিক্স, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, ভূগোল এবং কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করতে হলে মাধ্যমিক বা সমমানের অন্য বোর্ডের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। অনেক অভিভাবকদের প্রশ্ন, শুধু ভর্তি হলেই তো হবে না। তাঁদের ছেলেমেয়েরা কি নিজেদের পছন্দের বিষয় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সুযোগ পাবে? অভিভাবকদের এই প্রশ্নের পিছনে যে-আশঙ্কা লুকিয়ে আছে, সেটা আদৌ অমূলক নয়। বিষয়ভিত্তিক ৯০ থেকে ১০০ পেয়েছে অনেক বেশি পরীক্ষার্থী।
একাদশে পাওয়া যাবে কি পছন্দের বিষয়, উঠছে প্রশ্ন। একাদশ শ্রেণির আসন বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন মহুয়া দাস।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, ওই সব কৃতী পড়ুয়ার সকলেই পছন্দ মতো বিষয় নিয়ে ভর্তি হতে পারবে কিনা? শিক্ষকদের একাংশ বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকে সব থেকে বেশি চাপ থাকে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে। এ বার সেই চাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ, সব বিষয়ের মতো বিজ্ঞান বিষয়েও নম্বর উঠেছে অনেক বেশি। বিজ্ঞানে ভর্তির ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের সচেতন থাকতে হবে। দেখতে হবে, সত্যিই পড়ুয়ার বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার উৎসাহ আছে কি না।
একাদশে পাওয়া যাবে কি পছন্দের বিষয়, উঠছে প্রশ্ন। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে আরো। এতো ছাত্র-ছাত্রী পাশ করার পরও দীর্ঘদিন স্কুল না খোলায় পড়াশোনা থেকে মুখ ফিরিয়েছে অনেক ছাত্র-ছাত্রী। বেড়েছে কম বয়সে ছাত্রীদের বিবাহের প্রবণতা, বেড়েছে শিশু শ্রমিকও। কার্যত উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কতজন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হলো তা এখন দেখার বিষয়।



