নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দলের মহাসমাবেশ ডেকেছেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল ১১টায় সেই বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকে দলনেত্রী কী বার্তা দেন, সে দিকেই তাকিয়ে সকলে। অনেকের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনের সর্বস্তরে ‘ঝাঁকুনি’ দিতে চান মমতা। নেতাজি ইন্ডোরের বৈঠক থেকেই বিধানসভার লক্ষ্যে দলের সুর বেঁধে দিতে পারেন তিনি। আর আজ ইন্ডর থেকে তৃণমূল কর্মীদের জন্য আগামী ২৬ এর নির্বাচনের জন্য দিলেন বার্তা। কি বললেন মমতা?
- তৃণমূল ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসত। বামেদের তখনই পতন হত।
- মানুষই আমাদের পাহারাদাড়। আমি সেই কর্মীকে পুরষ্কৃত করতে চাই, যে সারাক্ষণ কিছু চান না, কিন্তু ভোটের সময় বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করে।
- বিজেপি ভোটের সময় বিজেপি বিডিও-পুলিশ সব চেঞ্চ করে। সিআইএসএফ নিয়ে আসে। ভোটে যত এগিয়ে আসে তৎপরতা বাড়বে। মিডিয়াকে কন্ট্রোল করে।
- সংবাদ মাধ্যমে যাঁরা কাজ করেন, মালিকের সঙ্গে তফাৎ আছে। মালিকরা বিভিন্ন ব্যবসা করেন। তাঁদের ইডি-সিবিআই দেখিয়ে ভয় দেখায়। বিজেপি পার্টি অফিস থেকে লিখে দেখিয়ে দেয়। কোন খবর দেখাবে।
- ভোট এলে মনে পড়ে কাকে কাকে চোর বলা হবে। কাকে কাকে জেলে ভরা হবে। লজ্জা করে না আরজি কর কেস আজ অবধি সমাধান করেননি। কোন মুখে কথা বলেন?
- বাংলায় অনেক লোক হয়ে গিয়েছে। আমরা পরিষেবা দিতে গিয়ে বুঝতে পারি।
- মিটিং-এ আসতে গেলে ডায়রি সাথে আনতে হয়। এটা অভ্যাস। সব কথা নোট করে রাখতে হয়।
- তৃণমূলের নেতাদের ফোন ট্যাপ করে। ওদের টাকার-এজেন্সির জোর আছে।
- আমি নির্বাচন কমিশনকে খুব সম্মান করতাম। জানেন সদ্য কে নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন?স্বরাষ্ট্র মন্ত্রির সচিবকে করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশন। এই কমিশন বিজেপির সেটিং করা।
- ২০২৭ থেকে ২০২৯ এর মধ্যে বিজেপির ক্ষমতা শেষ। দু-তিন বছরের মধ্যেই ওদের আয়ু শেষ।
- যাঁরা কাজ করেন তাঁদের পদন্নোতি হবে। কিন্তু যাঁরা ভাষণ দেন, কাজ করেন না, সিপিএম-বিজেপির সঙ্গে লড়াই করেন না, তাদের উপর আমার দয়ামায়া নেই।
- ওরা বলে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবেবরাতে দুদিন ছুটি দিয়েছে। উনি কমিউনাল। আমি দুদিন ছুটি দিয়েছিলাম কারণ একটা সবেবরাত আর একটা পঞ্চানন বর্মার জন্মদিন বলে। পঞ্চানন বর্মার জন্মদিন মনে রাখবেনা আর রাজবংশী ভোট চাইবেন?
- বিজেপিকে আমি বলব গেরুয়া কমরেড। উপরটা গেরুয়া ভিতরটা লাল।
- কোনও একটা অফিসার বদমায়সি করেছিল। সাসপেন্ড হয়ে গেছে।
- ৫০টা এজেন্সি বাংলায় পাঠিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভ্যাঙানো হচ্ছে আমাদের। আমার গলা নয়। এআই দিয়ে গলা পরিবর্তন করছে। সবাইকে বলব ক্রশচেক করুন এটা আমার কথা কি না। দিনকাল সাংঘাতিক। এর সুযোগ বিজেপি নিচ্ছে। কখনও আমার নাম ভাঙিয়ে-কখনও অভিষেক–ডেরেকের নাম ভাঙিয়ে উল্টোপাল্টা বলে।
- ওদের ৫০টা এজেন্সি থাকে আমাদের তো একটা তো থাকবে। ওদের সঙ্গে মিল থাকতে নাও পারে। কিন্তু ফিল্ড সার্ভে করার লোক লাগবে।
- পিকের আইপ্যাক এটা নয়। ও একটা নতুন দল করেছে। এদের নামে উল্টাপাল্টা বলা বন্ধ করুন।
- ভোটার লিস্ট পরিষ্কার করতে হবে। ভয় পাবেন না। একটা এজেন্সিকে দিয়ে এই সব ভোটার তৈরি করা হয়েছে…।
- সম্ভবত, অ্যাশোসিয়েশন অব বিলিয়ন মায়েন্ড বলে কোম্পানি আছে। কোম্পানি ইন্ডিয়া ৩৬০ নামে অনেক এজেন্সি খুলেছে। ওরা ডেটা অপারেটারদের কাছে গেছে। বাংলার লোক যাতে ভোট দিতে না পারে। বাইরের লোকের নাম তুলেছে। আধার কার্ড কেলেঙ্কারি করেছে। বাংলার এপিক কার্ডে পঞ্জাব-রাজস্থান-বিহারের লোকের নাম তুলেছে।
- বাংলার ভোটারের নামের সঙ্গে সব হরিয়ানা। বিজেপির ব্যবসা।এখানে বাংলার সংস্কৃতি চলবে না।বহিরাগত সংস্কৃতি চলবে? এখানে জাগরণ করতে হবে। ওরা বাংলা দখল করতে চায়। গঙ্গারামপুর ঢেলে করেছে। সব জেলাতেই এমন কেস আছে। হরিয়ানা ভর্তি। ভোটার লিস্ট নিয়েছে ঢুকিয়ে দিয়েছে।
- এইসব করে দিল্লি-মহারাষ্ট্রকে হারিয়েছে। ওরা এই খেলাটা ধরতে পারেনি। আমরা ধরেছি।



