প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা কী? কারা পাবেন সুবিধা, কীভাবে আবেদন করবেন?

প্রান্তিক কারিগরদের দক্ষতা, আয় ও আধুনিকীকরণে বড় উদ্যোগ সরকারির বিশেষ প্রকল্প—PM Vishwakarma Yojana। সার্টিফিকেট, টুলকিট, ঋণ—সবই মিলবে এক প্ল্যাটফর্মে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা কী? কারা পাবেন সুবিধা, কীভাবে আবেদন করবেন?
দেশের প্রান্তিক ও ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের উন্নয়নে ২০২৩ সালের বিশ্বকর্মা পুজোর দিন শুরু হয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা। কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগের লক্ষ্য—কারিগর সম্প্রদায়ের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া, তাঁদের আয় বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা এবং দেশীয় শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি করা। প্রকল্পটির জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্র ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

ভারতের বহু গ্রাম ও ছোট শহরে এখনও বহু মানুষ ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্মের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কাঠমিস্ত্রি, কামার, কুমোর বা স্বর্ণকার—এই পেশাগুলি ভারতের হাজার বছরের কারুশিল্প ঐতিহ্য বহন করে। কিন্তু প্রযুক্তির যুগে এদের মধ্যে অনেকেই পিছিয়ে পড়ছেন। সেই ব্যবধান কমাতেই শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা, যা কারিগরদের শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, বরং দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম, ডিজিটাল লেনদেন এবং বাজার যোগাযোগ—সবকিছুর সুযোগ দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা কী? কারা পাবেন সুবিধা, কীভাবে আবেদন করবেন?

এই প্রকল্প পরিচালনা করছে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প মন্ত্রক। এর মূল ভাবনা—কারিগরদের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটিয়ে তাঁদের উপার্জন এবং কর্মস্থলের মান বৃদ্ধি করা। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা–র আওতায় আবেদনকারীরা জমানত ছাড়া ঋণ, প্রশিক্ষণ, সরকার অনুমোদিত সার্টিফিকেট, ডিজিটাল আইডি এবং টুলকিট ইনসেন্টিভ পাবেন।

১৮ বছর বয়স হলেই এই স্কিমে আবেদন করা যায়, তবে আবেদনকারীকে অবশ্যই তাঁর পেশায় দক্ষ হতে হবে। বর্তমানে মোট ১৮ ধরনের কারিগর এই পরিকল্পনার সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছুতোর, নৌকা নির্মাতা, কামার, স্বর্ণকার, বরফ-চর্মকার, কুমোর, মূর্তিশিল্পী, দর্জি, নাপিত, ধোপা, জাল প্রস্তুতকারক, মালাকার এবং আরও বহু ঐতিহ্যবাহী পেশা। সরকারের মতে, এই পুরো শ্রেণিকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত না করলে ভারতের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ধীরে ধীরে উধাও হয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা কী? কারা পাবেন সুবিধা, কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা কী? কারা পাবেন সুবিধা, কীভাবে আবেদন করবেন?

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা–র বড় সুবিধা হচ্ছে কাজের স্বীকৃতি। প্রত্যেক সুবিধাভোগী পাবেন PM Vishwakarma সার্টিফিকেট এবং ডিজিটাল আইডি কার্ড। দক্ষতার মূল্যায়নের পরে তাঁদের দেওয়া হবে আধুনিক সরঞ্জামসহ টুলকিট ইনসেন্টিভ, যার মূল্য ১৫,০০০ টাকা। পাশাপাশি ৫–৭ দিনের দক্ষতা প্রশিক্ষণ, যেখানে শেখানো হবে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার, ডিজিটাল পেমেন্ট, ব্র্যান্ডিং, বিপণন, আর্থিক লেনদেন ও ঋণ ব্যবস্থাপনা।

সবচেয়ে বড় আর্থিক সুবিধা—কারিগরেরা পাবেন ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমানত-মুক্ত ঋণ, যা ১৮ মাস ধরে শোধ করা যাবে। এই ঋণ তাঁরা কাজের বিস্তার, সরঞ্জাম কেনা বা ব্যবসা বাড়াতে ব্যবহার করতে পারবেন।

এখন প্রশ্ন—প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনার জন্য আবেদন করবেন কীভাবে?

প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন। আবেদন করতে হবে PM Vishwakarma Portal-এর মাধ্যমে। পোর্টালে গিয়ে ‘How to Register’ অপশনে ক্লিক করে মোবাইল নম্বর যাচাই এবং আধার KYC সম্পন্ন করতে হবে। এরপর আসবে রেজিস্ট্রেশন ফর্ম। আবেদন অনুমোদিত হলে ডিজিটাল আইডি এবং সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে নিজের সুবিধা বেছে নেওয়া যাবে।

নরেন্দ্র মোদীর সরকার দাবি করেছে—এই প্রকল্প আগামী কয়েক বছরে ৩০ লক্ষেরও বেশি কারিগরকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত স্থিতি দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক প্রয়োগ হলে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা ভারতীয় কুটিরশিল্পকে নতুন করে বিশ্বমানে তুলে ধরতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত