নজরবন্দি ব্যুরোঃ দেশে আবারও একবার বাড়ল করোনার দৈনিক সংক্রমণ। এই শীতে করোনার সক্রমণ বাড়তে পারে, সেই আশঙ্কায় আগে থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছিলো নাগরিকদের। করোনা বিধি অনুসরণের পাশাপাশি টিকা নেওয়ার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। সোমবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুসারে শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৯৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ মাত্র আট ঘন্টায় পাহাড়ের হাতছানি,আজ বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ট্রায়াল পর্ব


নতুন করে করোনা থাবা বসাতে পারে জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডবিয়া দেশবাসীকে কোভিড বিধি অনুসরণের পাশাপাশি বলেছেন যারা টিকা নেননি, এখনই নিয়ে নিতে। বুস্টার ডোজও নিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে এটাও বলেছেন করনায় আক্রান্ত হলে পরীক্ষা করানো এবং ব্যবহৃত নমুনাটিকে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো বাধ্যতামূলক। এবং এই অতিমারির সংক্রমণ ভারতে যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে দিকে নজর রেখে একগুতচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে তিনি।

গত কয়েক দিনে দেশে রোজই বাড়ছে করোনার দৈনিক সংক্রমণ। শনিবার সাস্থ্যমন্ত্রক প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে করোনায় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন। রবিবারের বিপোর্টে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ২২৭। তবে শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সোমবারের রিপোর্ট অনুসারে দৈনিক সংক্রমণ বৃদ্ধিতে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। তার পরেই রয়েছে পঞ্জাব এবং রাজস্থান। সমস্ত করোনা পজিটিভ নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে বলা হয়েছে রাজ্যগুলিকে।
জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে জানা যায় কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তিরা কোভিডের কোন প্রতিরূপের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। চিনে কোভিডের যে প্রতিরূপটি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এবং বহ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে, সেই বিএফ.৭ ভারতেও ছড়িয়ে পড়ছে কি না, তা জানা যাবে এই পদ্ধতিতেই। তাই বিশেষজ্ঞরা বার বার জিনোম সিকোয়েন্সিং বাড়ানোর উপর জোর দিতে বলছেন।


বছরের শেষে ছুটির উৎসবের মেজাজে গোটা দেশ। এই পরিস্থিতিতে করোনা বিধি নিয়ে সতর্ক না থাকলেই বাড়তে পারে বিপদ। মাস্ক পরা, দূরত্ব বিধি মানা, নিয়মিত হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে বর্ষশেষের উৎসব শেষে নতুন বছরের প্রথম দুই সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বাড়তি সতর্ক বাধ্যতামূলক। এদিকে চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ অবশ্য জানিয়েছেন, দেশের অধিকাংশ মানুষের শরীরে কোভিডের বিরুদ্ধে মিশ্র প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ায়, চিনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না ভারতে।
২৪ ঘণ্টায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, লকডাউন নিয়ে কি বলছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী?

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। চিনে প্রতিদিন প্রায় দশ লাখ মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। কোভিড প্রতিরোধে চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইল্যান্ড থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্র। আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় সব ক’টি রাজ্যকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।







