নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২৫ সেপ্টেম্বর রবিবার মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের শুরু হচ্ছে এবং দেবী শক্তির আরাধনা চলবে ১০ দিন ধরে। দেশজুড়ে মহা সমারোহে পালিত হয় এই উৎসব। দু’বছর মহামারী প্রকোপের কারণে পুজোর জৌলুসে সব জায়গায় ভাটা পড়েছিল। এবছর কিছুটা স্থিতি হয়েছে সেই পরিস্থিতি। এই দেবী পক্ষের অন্যতম একটি রীতি হল কুমারী পুজো। এই সময়ে কুমারী পুজো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হয়। এই পুজোর মাধ্যমে মাকে আগামী বছরে আবারও আসার অনুরোধ জানানো হয়।
আরও পড়ুনঃ জট কাটল বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গাপুজোর, শুরু হল কাঠামো তৈরির কাজ


দেবী পুরাণে কুমারী পুজোর সুষ্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্র অনুসারে সাধারণত এক বছর থেকে ১২ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পুজোর উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পুজো করার বিধান রয়েছে। সপ্তমী তিথির শেষে এই কুমারী পুজো শুরু হয়। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীর দিন মেয়েদের নয়টি দেবীর রূপ হিসাবে পুজো করা হয়। মেয়েদের পা ধুয়ে তাদের মা দুর্গার সমান দেওয়া হয়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে মা সেই ভক্তদের আশীর্বাদ করেন যারা সুখ এবং মন দিয়ে এই কুমারী পুজো করেন।

শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর প্রকাশ। কুমারী পুজোর মাধ্যমে নারী জাতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার বেলুড় মাঠে নয় কুমারীকে পুজো করেন। তখন থেকে প্রতি বছর দুর্গাপুজোর অষ্টমী তিথিতে বেলুড় মঠে মাহা ধুমধাম করে এই পুজোর প্রথা চলে আসছে।

মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী দেবী মন্দিরে ও কন্যাকুমারীতেও মহা ধুমধামের সঙ্গে কুমারী পুজো হয়। কথিত আছে, কুমারীপুজো ছাড়া হোম-যজ্ঞ করেও দুর্গাপুজোর সম্পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না। কুমারীপুজোর আগে সাধক কুমারীকে নতুন বস্ত্র, ফুলের মালা ও মুকুটে সাজান। পায়ে আলতা, কপালে সিঁদুর ও তিলক সৌন্দর্যে রাঙিয়ে তোলেন।


সকল শুভ কর্মের ফল পেতে কুমারী পুজো করা হয়। কুমারী পূজন সম্মান, লক্ষ্মী, বিদ্যা এবং তেজ নিয়ে আসে। এটি শত্রুদের ধ্বংস, ভয়ের ধ্বংসের কারণও হয়। দেবী যতটা কুমারী পুজোয় সন্তুষ্ট হন, ততটা জপ ও তপে সন্তুষ্ট হন না।
কুমারী পুজো আসলে কি? কেন করা হয়? জেনেনিন এর গুরুত্ব

এই দিনে ভক্তরা নয়টি মেয়েকে নয় জন দেবী হিসাবে পুজো করার পরে উপোস ভঙ্গ করেন। তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী দক্ষিণা অর্পণ করেন। এতেই মা খুশি হন। দুই থেকে ১২ বছরের ৯ জন বাচ্চা মেয়েকে কুমারী পুজো করা যায়। প্রকৃতপক্ষে, দুই বছরের কুমারী, তিন বছর বয়সী ত্রিমূর্তি, চার বছর বয়সী কল্যাণী, পাঁচ বছর বয়সী রোহিনী, ছয় বছরের কিশোরী, সাত বছরের চণ্ডিকা, আট বছরের শম্ভবী, নয় বছরের দুর্গা এবং দশ বছরের কন্যাকে সুভদ্রা বলা হয়।







