নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম | ৩১ মে ২০২৫ — রাজনীতির কেন্দ্রে আবারও বীরভূমের বিতর্কিত নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ— বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে ফোনে হুমকি দিয়েছেন তিনি। এই মর্মে একটি ভাইরাল অডিয়ো ক্লিপ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।
অডিয়ো ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি অনুব্রতের নাম করে আইসিকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং স্পষ্ট হুমকি দিচ্ছেন। যদিও অনুব্রত মণ্ডলকে ফোন করে আনন্দবাজার। সেখানে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন— “ওটা আমার গলা নয়।”
ভাইরাল অডিয়োতে অনুব্রতের কণ্ঠস্বর? বোলপুরের আইসিকে হুমকির অভিযোগ, মুখ খুললেন কেষ্ট

প্রশ্ন করা হয়েছিল, “ভাইরাল অডিয়োর কণ্ঠস্বর কি আপনার?” জবাবে অনুব্রত বলেন, “না।” তাঁর দাবি, কেউ যদি সমাজমাধ্যমে এটি ছড়িয়ে দিয়ে থাকে, “সেটা বলতে পারব না।” আর আইসিকে হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি কেন আইসিকে হুমকি দেব? উনি একজনকে মেরে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। আমি ফোন করলে বলে, ফোন রাখ।” এরপর আর কথা না বাড়িয়ে অনুব্রত ফোন কেটে দেন।
অনুব্রতের মতে, তিনি গত দুই মাস ধরে আইসি লিটন হালদারকে বদলির দাবি জানিয়ে এসপি, অ্যাডিশনাল এসপি, এমনকি ডিজি রাজীব কুমার পর্যন্তকে জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, “আইসি এফআইআর করতে গেলেও টাকা চান।” এই মন্তব্য স্পষ্টতই প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করে এবং এটি দলের অস্বস্তির ইঙ্গিত দেয়।
অনুব্রতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা তৃণমূল নেতা কাজল শেখ ইতিমধ্যেই দলের কোর কমিটিতে প্রভাবশালী মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন। ভাইরাল অডিয়ো নিয়ে অনেকেই বলছেন— “আইসি কাজলের লোক।” কাজল শেখ যদিও এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। তিনি বলেছেন,
“সবটাই অভিযোগ। সত্যতা জানা নেই।”
বীরভূম জেলা তৃণমূলের এক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, “আগামী ১৪ জুন সিউড়িতে কোর কমিটির বৈঠক রয়েছে। এর মধ্যে এই ঘটনা যদি না মেটে, বৈঠকে বিষয়টি তোলা হতে পারে।”
একসময় বীরভূম তৃণমূল মানেই অনুব্রত। প্রশাসন ও দল, উভয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁর হাতে। তবে গরু পাচার মামলায় জেল খাটার পর তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে তিনি জেলা সভাপতি নন, কেবল কোর কমিটির সদস্য। এই অডিয়ো-কাণ্ড এবং প্রশাসনের সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘাতে প্রশ্ন উঠছে— “অনুব্রতের প্রভাব কি শেষের পথে?”



