নজরবন্দি ব্যুরোঃ চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত-নিম্নচাপ, সকাল থেকেই অস্বস্তিকর ওয়েদার, কখনও কড়া রোদ তো কখনও ঘন কালো মেঘে ঢাকছে আকাশ। যেন ভাসা মেঘে খামখেয়ালিপনা শুরু করেছে আকাশ। জুন মাসে বৃষ্টির ঘাটতি। জুলাই মাসেও ভারী বৃষ্টির দেখা নেই। বর্ষাকালে দেখা নেই বৃষ্টিপাতের। দক্ষিণবঙ্গের কৃষকেরা চাতক পাখির মতো ভারী বৃষ্টির আশায় রয়েছেন। আপাতত আশার আলো দেখাতে পারছেন না আবহাওয়াবিদরা।
আরও পড়ুনঃ আমাদের কর্মীদের মাথা ফাটলে ওদের মাথা ফাটাবো, বিস্ফোরক বিজেপি নেতা


মৌসুমী বায়ু অপেক্ষাকৃত দুর্বল। তাই আপাতত আগামী তিন থেকে চার দিন রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই, এমনটাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। চলতি বছর ৩ জুন উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করে বর্ষা। এরপর থেকেই ভারী বৃষ্টিপাত হয় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। কিন্তু, দক্ষিণবঙ্গে অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে দেখা গিয়েছে বৃষ্টির ঘাটতি।

কলকাতায় বৃহস্পতিবার আংশিক মেঘলা আকাশ। দু-এক পশলা হালকা মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় বৃষ্টি না হলে আর্দ্রতা জনিত অস্বস্তি ভোগাবে। এদিন দুই থেকে তিন ডিগ্রি বাড়তে পারে শহর কলকাতার তাপমাত্রা। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।
গতকাল কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি বেশি এবং এদিন সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি কম। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সর্বাধিক ৯২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৭২ শতাংশ। গতকাল রাত থেকে এখনও পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৩ মিলিমিটার।



আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ৪/৫ দিন রাজ্যে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং কালিম্পং আলিপুরদুয়ার কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি এই পাঁচ জেলায় হালকা মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস। অন্যান্য জেলার তুলনায় এই পাঁচ জেলায় একটু বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গ-সহ উত্তরবঙ্গের সমতলের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস। বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে স্থানীয়ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা। এই কারণে একটানা বা একসঙ্গে বেশি এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
একটি নিম্নচাপ রয়েছে আরব সাগর এবং কচ্ছ এলাকায়। মৌসুমী অক্ষরেখা ওই নিম্নচাপ ও কচ্ছ এলাকা থেকে গুজরাটের গান্ধিনগর হয়ে ইন্দোর এবং পেন্ডরা রোড ও ভুবনেশ্বর হয়ে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। আরব সাগর উপকূলে আরও একটি অফসোর অক্ষরেখা রয়েছে। যেটি গুজরাত থেকে কর্ণাটক পর্যন্ত বিস্তৃত। একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে ওড়িশা ও ছত্রিশগড় সংলগ্ন এলাকায়।

পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি সর্তকতা। আগামী কয়েক দিন পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী চার পাঁচ দিন কঙ্কন, গোয়া কর্ণাটক, গুজরাতের কিছু অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কঙ্কন ও গোয়াতে প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা। প্রবল বৃষ্টি হবে কর্ণাটক এবং মধ্য মহারাষ্ট্র। মুম্বই, মধ্য মহারাষ্ট্র এবং ঘাট এলাকাতে ৯ জুলাই পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। ৮ জুলাই গুজরাতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।
চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত-নিম্নচাপ, বড় পূর্বাভাস জানালো হাওয়া অফিস

দুই বঙ্গে বৃষ্টির এই তারতম্য নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে বিশেষজ্ঞ মহল। তবে অগাস্টের শুরুতেই রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হবে এমনটাই দাবি করেছেন ভূতত্ত্ববিদ ড. সুজীব কর। তাঁর কথায়, অগাস্ট মাসের শুরু থেকেই বদলাবে আবহাওয়া। দক্ষিণবঙ্গ পাবে ভারী বৃষ্টি। রয়েছে বন্যাপরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও, দাবি তাঁর।








