নজরবন্দি ব্যুরোঃ উষ্ণতম মার্চ মাস দেখল ভারত। ভেঙে গেল ১২২ বছরের ইতিহাস! আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এ কথা জানানো হয়েছে। সেই তথ্য বলছে, স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার চেয়ে গড়ে ১.৮৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল ২০২২-এর মার্চ মাসের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা! গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
আরও পড়ুনঃ “ভোট করুন, অগ্নিকে নিয়ে আসুন”, ভিডিও বার্তায় আর্জি মহাগুরুর


১২২ বছরে আবহাওয়ার এমন চেহারা ভারতে দেখা যায়নি। কার্যত ইতিহাস তৈরি হয়েছে এই বছরের আবহাওয়ায়। ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর Indian mteorological Department (IMD)-এর তরফ থেকে এই কথা জানানো হয়েছে। কী হয়েছে ভারতের আবহাওয়ায়?
কেন্দ্রীয় মৌসম ভবনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে শেষ ১২২ বছরের ইতিহাস পাল্টে দিয়ে ভারতের গ্রীষ্মের পরিমাণ সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ভেঙে দিয়েছে ভারতের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। ২০১০ সালের মার্চ মাসে গড় দৈনিক তাপমাত্রা দাঁড়িয়ে ছিল ৩৩.০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ বারে সেই রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে।

এর আগে জানুয়ারি মাসের গোড়ায় মৌসম ভবনের রিপোর্ট জানিয়েছিল, ১৯০১ সাল থেকে গত ১২০ বছরের ইতিহাসে ২০২১ সালটি ছিল ভারতে পঞ্চম উষ্ণতম বছর। মার্চ মাসে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি দেখে আবহবিদদের একাংশের অনুমান, উষ্ণতার নয়া রেকর্ড গড়তে পারে ২০২২।


সদ্য শেষ হওয়া মার্চের দৈনিক দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দাঁড়িয়ে আছে ৩৩.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অর্থাৎ .০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯০১ সালের পর এমন তাপমাত্রার বৃদ্ধি দেখা যায়নি। এই বছর মার্চ মাসের ২০ তারিখে দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রেকর্ড।
শুধু উষ্ণতা বৃদ্ধি নয়, বছরের গোড়ায় উদ্বেগজনক ভাবে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে দেশে! হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, দেশ জুড়ে মার্চে বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৭১ শতাংশ। ১১৪ বছরে এর চেয়ে কম বৃষ্টির নজির মাত্র দু’বার। এমন পরিস্থিতি কৃষিক্ষেত্রের পক্ষে উদ্বেগজনক। সাধারণ ভাবে মার্চ মাসে দেশে গড়ে ৩০.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু এ বার মার্চে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৮.৯ মিলিমিটার। এর আগে ১৯০৮ সালের মার্চে দেশে বৃষ্টি হয়েছিল ৮.৭ মিলিমিটার। ১৯০৯ সালের মার্চে ৭.২ মিলিমিটার।
ভেঙে গেল ১২২ বছরের ইতিহাস! ভারতের আবহাওয়ার এমন বদল দেখে চমকে গেলেন বিজ্ঞানীরা

হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়. দিল্লি, পঞ্জাব ও রাজস্থানের প্রায় সর্বত্রই গড় তাপমাত্রা ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের রাজ্যেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি কার্যত জানান দিয়ে দিয়েছে গ্রীষ্মের প্রবল দাবদাহের কথা। এখনও এপ্রিল-মে মাসের তীব্র গরম শুরু হয়নি, তার মধ্যেই রাজ্যের মানুষের হাঁসফাঁস করা গরমে নাজেহাল অবস্থা।







