বর্ষার দাপট কিছুটা কমলেও পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় এখনই স্বস্তি নেই। শুক্রবার, ২১ অগস্ট দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও হতে পারে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে এখনও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে একদিকে দক্ষিণে বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে উত্তরের কয়েকটি জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। বৃষ্টি হলেও আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলবে না।
কলকাতার আকাশ এ দিন মূলত মেঘলা থাকবে। শহরের বিভিন্ন অংশে বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। কলকাতায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে। ফলে বাইরে বেরোনোর সময় ছাতা সঙ্গে রাখা প্রয়োজন।
দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়াতেও বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হতে পারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে মেঘলা আকাশের পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
শুধু দক্ষিণের পশ্চিমাঞ্চল নয়, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতেও। অর্থাৎ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই কম-বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকছে। তবে আপাতত অতিভারী বৃষ্টির মতো পরিস্থিতির কথা জানানো হয়নি।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে অবশ্য ছবিটা তুলনামূলক ভাবে বেশি উদ্বেগের। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকলেও দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ—সর্বত্রই বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বৃষ্টি নামলেও গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কাটবে না। বরং বৃষ্টির পর আর্দ্রতা বেড়ে গেলে অনেক জায়গাতেই ভ্যাপসা ও গুমোট পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
দিনের তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও আর্দ্রতার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গরম অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের শহরাঞ্চলে বৃষ্টি থামার পর অস্বস্তি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শুক্রবারের আবহাওয়ায় বৃষ্টি ও গুমোট—দুইয়েরই প্রভাব থাকবে।
সব মিলিয়ে শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার রেশ বজায় থাকবে, তবে উত্তরবঙ্গের তুলনায় পরিস্থিতি তুলনামূলক ভাবে কম দুর্যোগপূর্ণ। দক্ষিণের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং উত্তরের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাই দিনের আবহাওয়ার মূল বৈশিষ্ট্য। আবহাওয়া পরিবর্তনশীল হওয়ায় বাইরে বেরোনোর আগে স্থানীয় পূর্বাভাস দেখে নেওয়াই নিরাপদ।



