আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে ইমরান খান, ৯ মাস পর পরিবারের সঙ্গে দেখা! বাড়ল নিরাপত্তা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আদিয়ালা জেল থেকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ইমরান খানকে স্থানান্তর করা হল। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসা ও সপ্তাহে একবার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের নির্দেশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আদালতের নির্দেশ মেনে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে জেল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আদিয়ালা জেল থেকে তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে (Shifa International Hospital) নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে সেখানে পৌঁছন ইসলামাবাদের ইন্সপেক্টর জেনারেল-সহ পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তা।

দীর্ঘদিন ধরে জেলে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছিল তাঁর পরিবার। বিভিন্ন মেডিক্যাল রিপোর্ট সামনে এনে তাঁর চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। উন্নত চিকিৎসার দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (Pakistan Tehreek-e-Insaf)-এর কর্মী-সমর্থকরাও আদালতের দ্বারস্থ হন।

শেষ পর্যন্ত ইমরান খানকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেয় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবারই তাঁকে চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়। তবে বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে আগের নির্দেশই বহাল রাখে শীর্ষ আদালত।

এর পরেই বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আদিয়ালা জেল থেকে ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে আদালতের নির্দেশে আরও একাধিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ সূত্রের দাবি, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলার কথা। একইসঙ্গে সপ্তাহে অন্তত একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। ওই বোর্ডে ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ফয়জল সুলতান এবং তাঁর বোন ও চিকিৎসক উজ়মা খান থাকার কথা। তবে ইমরানের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে। তাঁর আইনজীবী বা পরিবারের সদস্যরা সংবাদমাধ্যমের সামনে সেই রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারবেন না।

ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে আদালতের এই হস্তক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বুধবার প্রায় ন’মাস বাদে তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান বোন নোরিন নিয়াজি এবং স্ত্রী বুশরা বিবি। বুশরা বিবিও আদিয়ালা জেলের অন্য একটি সেলে বন্দি রয়েছেন।

৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান ২০২৩ সালের অগস্ট থেকে কারাবন্দি। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা শুরু হয়। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় সাজা ও আইনি লড়াইয়ের মধ্যে জেলে রয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক।

ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বরাবরই দাবি করে এসেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়েও দলের পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কারাগারে থাকার সময়ে তাঁর দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্য ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রের দাবি। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে নির্দিষ্ট মেডিক্যাল তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় তা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আদালতের নির্দেশে আপাতত জেলের বদলে হাসপাতালেই চিকিৎসা চলবে ইমরান খানের। সপ্তাহে একবার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এবং বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ তাঁর চিকিৎসা ও বন্দিজীবন ঘিরে চলা বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসা চলার কথা থাকায় এই সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকেই নজর থাকবে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন