যাদবপুরে দেশবিরোধী স্লোগান উঠলেই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! হুঁশিয়ারি দিলীপের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষের আঁচ এবার পৌঁছল রাজনীতির ময়দানেও। শুক্রবার সকালে যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর দাবি, ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী কাজ বা স্লোগান বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনা ফের ঘটলে যাদবপুরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন দিলীপ। তিনি জানান, কয়েক দিন ইন্দোরে থাকায় যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনা তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ধরনের দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলতে দেওয়া উচিত নয়। একইসঙ্গে আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে এমন কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

দিলীপের বক্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে এবিভিপি যাদবপুরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ করেছে এবং দেশবিরোধী স্লোগান উঠলে ফের একই ধরনের পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। একইসঙ্গে আগামী ছ’মাসের মধ্যে অনেক কিছু ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনে বুধবার রাতে একটি জেনারেল বডি (GB) মিটিংকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত। অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন এবিভিপি (ABVP)-র কয়েকজন সদস্য সেখানে ঢুকে পড়েন। তাঁদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়, ছাত্র সংসদ না থাকলে কীসের জিবি মিটিং হচ্ছে। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে।

অন্যদিকে এবিভিপির অভিযোগ, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা তাঁদের উপর হামলা চালান। সংঘর্ষে কয়েকজন পড়ুয়া আহত হন এবং তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরের দিন ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) কর্মসূচির ডাক দেয়। পালটা কর্মসূচি নেয় এবিভিপিও।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই পক্ষের জমায়েত ও মিছিলকে কেন্দ্র করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশি ব্যারিকেড ঘিরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার পর আহত এবিভিপি সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করেন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় (Sharbari Mukherjee)। তিনিও দেশবিরোধী স্লোগান বা কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন।

শর্বরীর বক্তব্যের পর শুক্রবার দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে বিষয়টি আরও রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সরকার অতীতে যাদবপুরে ‘দেশবিরোধীদের’ প্রশ্রয় দিয়েছে। তবে তাঁর এই রাজনৈতিক অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি এই বক্তব্যে দেননি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ করছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ভাঙচুর বা সংঘর্ষে কারা যুক্ত ছিলেন, তা চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি, সংগঠনের কার্যকলাপ এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর রাজনৈতিক নেতাদের একের পর এক কড়া মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে। ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান বা কার্যকলাপের অভিযোগ উঠলে তার প্রমাণ ও তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

দিলীপ ঘোষের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ মন্তব্য তাই শুধু যাদবপুরের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই থাকছে না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্ক। এখন নজর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত, সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে ফের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার দিকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন