ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে গিয়ে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-২০ ম্যাচ খেলার কথা শুভমান গিলদের। কিন্তু সিরিজ শুরুর আর মাত্র দু’সপ্তাহ বাকি থাকলেও ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI) এখনও সফরটি নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি। বরং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)-এর সভাপতি তামিম ইকবালের বক্তব্যে পূর্ব নির্ধারিত সূচিতে সিরিজ হওয়া নিয়ে সংশয় আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ভারত-বাংলাদেশ সাদা বলের সিরিজ। প্রথমে তিনটি ওয়ানডে এবং পরে তিনটি টি-২০ ম্যাচ খেলার কথা দুই দলের। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু এখনও ভারতীয় বোর্ডের তরফে সফরটি নিশ্চিত করা হয়নি।
এর মধ্যেই ভারতীয় বোর্ডের সূচিতে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। একই সময়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলার কথা ঘোষণা করেছে বিসিসিআই। ফলে বাংলাদেশ সফরের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় বোর্ড আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশ সিরিজ বাতিল করেনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালও বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত কোনও বার্তা দিতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য, ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং সূচির তারিখে পরিবর্তন হতে পারে। ভারতীয় দলের সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পরই বাংলাদেশ তাদের যুব দলের প্রতিযোগিতার সূচি তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তামিমের এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, নির্ধারিত ৩ সেপ্টেম্বরের সূচি নিয়ে বাংলাদেশও এখন নিশ্চিত নয়। মীরপুরে যুব দলের একটি প্রতিযোগিতা রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সিরিজের সূচি চূড়ান্ত হলে প্রয়োজনে সেই প্রতিযোগিতা অন্য মাঠে সরিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতি থাকলেও এখনও চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মেলেনি।
বিসিসিআই সূত্রে অবশ্য জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সফর নিয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বোর্ড কর্তারা। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের হাই কমিশনের সঙ্গেও আলোচনা চলছে বলে সূত্রের দাবি। দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থাৎ সরকারের অনুমোদন মিললেই শুভমান গিলদের বাংলাদেশ সফরের রাস্তা খুলতে পারে। কিন্তু হাতে সময় মাত্র দু’সপ্তাহ থাকায় পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সফর আয়োজন করা কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনক্ষণ বদল হলে সিরিজটি অন্য সময়ে আয়োজনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটও এই অনিশ্চয়তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত বছরও ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রিকেটেও পড়ে।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে না আসায় দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। ফলে এই সিরিজটি বাংলাদেশের কাছে শুধু একটি ক্রিকেটীয় লড়াই নয়, দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
এখন নজর বিসিসিআই ও ভারত সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। সিরিজটি পুরোপুরি বাতিল হয়েছে—এমন কোনও সরকারি ঘোষণা এখনও নেই। তবে তামিম ইকবালের বক্তব্য এবং ভারতীয় বোর্ডের অন্য সূচি সামনে আসায় ৩ সেপ্টেম্বর থেকে নির্ধারিত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা যথেষ্ট বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত শুভমান গিলরা বাংলাদেশে যাবেন কি না, তা স্পষ্ট হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।



