ভোটার তালিকায় বড় কাটছাঁটের আশঙ্কা! আরও ১০ লক্ষ নাম বাদ?

ভোটার তালিকা সংশোধনে বিপুল নথি অযোগ্য ঘোষিত। শুনানিতে অনুপস্থিত লাখো ভোটার, যাচাই বাকি লক্ষাধিক নথি—চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পিছোনোর জল্পনা জোরালো।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) চলাকালীন বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথি নিয়ে জটিলতা সামনে আসায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ আদৌ নির্ধারিত দিনে হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কমিশনের কাছে ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক ‘অযোগ্য’ নথির হিসাব পৌঁছে গিয়েছে, আর তাতেই জোরালো হয়েছে আশঙ্কা—চূড়ান্ত তালিকা থেকে আরও প্রায় ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের যাচাইয়ে ইতিমধ্যেই ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৭০ জন ভোটারের নথিকে ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই তালিকা কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, শুনানিপর্বে প্রায় সাত লক্ষ ভোটার হাজির না হওয়ায় তাঁদের নাম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে বাদ পড়ার সম্ভাব্য সংখ্যা ১০ লক্ষের গণ্ডি ছুঁতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের অনুমান।

এর আগে মৃত, অনুপস্থিত বা নিখোঁজ হিসেবে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারকে চিহ্নিত করেছিল কমিশন, যাঁদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এবার শুনানির পর্বে নতুন করে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সংশোধন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তবে এখনও বিপুল পরিমাণ নথি যাচাই বাকি রয়েছে। ভোটারদের নথি জমা ও যাচাইয়ের সময়সীমা ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে যেতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে সিইও দফতর সূত্রে। প্রয়োজনে কমিশনের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানানো হতে পারে।

জেলা প্রশাসনের কাছেও এখনও ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৩টি নথি যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের নথি পুনরায় যাচাইয়ের জন্য ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) ও সহকারী অফিসারদের (AERO) কাছে পাঠিয়েছেন। কমিশন সূত্রের দাবি, প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের নথি নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

নথি যাচাই ঘিরে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আগেই ১৩ ধরনের গ্রহণযোগ্য নথির তালিকা প্রকাশ করেছিল এবং সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, ওই তালিকার বাইরে কোনও নথি গ্রহণ করা যাবে না। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে তালিকার বাইরে থাকা নথিও জমা নেওয়া হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তাঁদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।

ভোটের মুখে ভোটার তালিকা নিয়ে এই অনিশ্চয়তা রাজনৈতিক মহলেও বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে। এখন নজর কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে—নির্ধারিত সময়েই তালিকা প্রকাশ হবে, নাকি আরও সময় লাগবে এই বিশাল যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করতে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর