নজরবন্দি ব্যুরোঃ বকেয়া ডিএ ও সমস্ত শূন্য পদে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে গত ১ মাসের বেশি সময় ধরে কলকাতার শহীদ মিনারের পাদদেশে ধর্না ও অনশন করছে রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত কর্মচারীদের ৪২ টি সংগঠনের মিলিত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। ইতিমধ্যে অনেক অনশনকারি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে গত ২০ ও ২১ শে ফেব্রুয়ারি সারা রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন। এবার ধর্মঘটের ডাক দিল সরকারি কর্মচারিদের সংগঠনগুলি। ধর্মঘটের জন্য জেলায় জেলায় প্রচার করছেন আন্দোলনকারীরা।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee: সঞ্জয়ের বাড়িতে ওরা কিছু পায়নি, বিজেপিকে আক্রমণে মমতা
জেলায় জেলায় কর্মচারীরা ভোটের ডিউটি থেকে বিরত থাকবেন বলে পিপি ২ ফর্মে তথ্য দিতে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে আবেদন জমা দিচ্ছেন। আগামী ১০ মার্চ তাঁরা রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিস,আদালত,স্কুল, কলেজে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এই ধর্মঘটকে সফল করার জন্য তারা জেলায় জেলায় প্রচার শুরু করেছে ও সমস্ত অফিসে পোস্টারিং ও লিফলেট বিলি করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মচারিদের ধর্না নিয়ে শিক্ষক নেতা রত্নদ্বীপ সামন্ত ও মানব দাস জানান “সরকার যত দিন না নিয়ম মেনে বকেয়া ডিএ দিচ্ছে এবং শূন্য পদে নিয়োগ না করছে তত দিন এই আন্দোলন চলবে। আমরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ও অফিসে ধর্মঘট সফল করার জন্য প্রচার ও পোস্টারিং করছি। আমরা আশাবাদী সরকার দ্রুত আমাদের সমস্যার সমাধান করবে।”
এরই মধ্যে মন্ত্রী ফিরহাদের হাকিমের মন্তব্য ডিএ আন্দোলনকারীদের মঞ্চে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। যারা অনেক পায়, তাদের আরও পাইয়ে দেওয়া আমার কাছে পাপ বলে মনে হয়। আমি বলছি, না পোষায় ছেড়ে দিন না। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট যখন অনেক টাকা দিচ্ছে, সেখানে গিয়ে কাজে যোগ দিন। তিনি আরও বলেন, ট্যাক্সের টাকা দিয়ে আমার মাইনে হয়, আমি মানুষের সেবা করি। সেই ব্রতটা সবার আগে দরকার।
ধর্মঘটের জন্য জেলায় জেলায় প্রচার, সুর চড়াচ্ছে সরকারি কর্মচারিরা

ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজ্যের সরকারি কর্মচারিরা জানিয়েছেন, তিনি যে মন্তব্য করেছেন, বেতন যাঁদের পোষাচ্ছে না, তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ করুন, তার প্রতিবাদে পেন ডাউন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন পুরসভায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন সরকারি কর্মচারিরা। তাঁদের কথায়, বেতন কি উনি নিজের পকেট থেকে দেন নাকি? নাকি ওনার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে দেন? বেতন সরকারি কর্মচারীদের হকের টাকা। ক্ষমতা থাকলে একথা হাইকোর্টে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলুন। সব মিলিয়ে আগামী দিনেও ডিএ ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় হতে চলেছে, তার আন্দাজ মিলছে।



