পশ্চিমবঙ্গে রাজস্ব বৃদ্ধি নিয়ে বড় দাবি করল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। নবান্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের পর প্রথম এক মাসেই রাজ্যের রাজস্ব আদায় গত অর্থবর্ষের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ₹১,০০০ কোটি বেড়েছে। সরকারের দাবি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করায় এই বাড়তি আয় সম্ভব হয়েছে।
প্রথম বাজেট পেশের সময় থেকেই বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল, বিপুল ঋণের বোঝা নিয়েও উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো খাতে এত বড় ব্যয়ের সংস্থান কীভাবে হবে। সেই বিতর্কের জবাবে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, অতীতে রাজস্বের বড় অংশ দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের বাইরে চলে যেত।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বীরভূমের একটি পাথর খাদানের উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, আগে একটি নির্দিষ্ট খাদান থেকে বছরে মাত্র কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব মিলত, অথচ বর্তমান সরকারের আমলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই আয়ের পরিমাণ বহুগুণ বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অতীতে এই খাতের বিপুল অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে অন্যত্র চলে যেত।
নবান্ন সূত্রের দাবি, শুধু পাথর খাদানই নয়, বালি, কয়লা, সম্পত্তি রেজিস্ট্রি এবং অন্যান্য রাজস্ব-নির্ভর ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যেখানে অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ ছিল, সেখানে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে সরকারি আয় বেড়েছে বলে দাবি করছে অর্থ দফতর।
সরকারি সূত্রের আরও দাবি, অনলাইন টেন্ডার প্রক্রিয়া, সম্পত্তি রেজিস্ট্রির ডিজিটাইজেশন এবং রাজস্ব সংগ্রহে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, সেগুলিতে নজরদারি জোরদার করায় সরকারি কোষাগারে অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন যে অতীতের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে একটি শ্বেতপত্র (White Paper) প্রকাশ করা হবে। সেই লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
সরকারি মহলের দাবি, বিভিন্ন খাতে রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়নের জন্য অর্থের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। আগামী দিনে এই অতিরিক্ত রাজস্ব কীভাবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।






