পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের পরও নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন নিয়ে জল্পনা অব্যাহত। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টনের সম্ভাবনা থাকলেও সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে কবে কার হাতে কোন দপ্তর যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। সেদিনই পূর্ণমন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব চূড়ান্ত করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার। ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
প্রথম দফায় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ এবং আরও কয়েকজন নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সেই সময় থেকেই সীমিত পরিসরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছিল।
এরপর সোমবার রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১। এর মধ্যে রয়েছেন ১৯ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী।
যদিও নতুন করে শপথ নেওয়া ৩৫ জন মন্ত্রীর অধিকাংশই এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও দপ্তরের দায়িত্ব পাননি। ফলে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য দ্রুত দপ্তর বণ্টনের দাবি উঠছিল বিভিন্ন মহলে।
বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে দপ্তর বণ্টনের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা থাকলেও বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল নতুন কয়েকটি সরকারি প্রকল্প। এদিন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং ‘আপনার সরকার, আপনার পাশে’-এর মতো কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের মতে, বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের আগে প্রশাসনিক প্রয়োজন, অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগছে।
শুক্রবার দপ্তর বণ্টনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে যাবে। কোন মন্ত্রী কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল এবং প্রশাসনের।
পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের পর দপ্তর বণ্টনই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। ফলে শুক্রবারের ঘোষণার দিকে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়ছে।



