মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গের বড় প্রতিনিধিত্ব, কোন জেলা পেল কজন?

শুভেন্দু সরকারের ৪১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ থেকে ১১ জন মন্ত্রী। পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব উত্তর ২৪ পরগনার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শুভেন্দু অধিকারী সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের পর সামনে এল আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের চিত্র। নতুন মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মন্ত্রী জায়গা পেয়েছেন। অন্যদিকে কলকাতাও মন্ত্রীসংখ্যার নিরিখে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশল স্পষ্ট হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভার বিন্যাসে।

মোট ৪১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ থেকে রয়েছেন ১১ জন মন্ত্রী। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ২৭। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা স্পষ্ট এই বণ্টনে। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে আলোচনা ছিল। নতুন মন্ত্রিসভা সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।

জেলার ভিত্তিতে বিচার করলে আলিপুরদুয়ার সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে। এই জেলা থেকে মোট চারজন মন্ত্রী হয়েছেন। কোচবিহার, দার্জিলিং এবং উত্তর দিনাজপুর থেকেও একাধিক প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। মালদা থেকেও একজন মন্ত্রী হয়েছেন।

অন্যদিকে কলকাতাও মন্ত্রিসভায় শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছে। সরাসরি চারজন মন্ত্রী কলকাতা জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন। এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হওয়ায় কার্যত কলকাতার মন্ত্রীসংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।

পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলা থেকে চারজন পূর্ণমন্ত্রী দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া কলকাতা, পশ্চিম বর্ধমান, আলিপুরদুয়ার এবং বীরভূম থেকে দু’জন করে পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। ফলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বের নিরিখে এই জেলাগুলির অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হুগলি, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমান ও পুরুলিয়া থেকেও প্রতিনিধিরা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।

স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক ভারসাম্যের ছবি দেখা গিয়েছে। কোচবিহার, ঝাড়গ্রাম এবং কলকাতা—এই তিন জেলা থেকে তিনজন বিধায়ক এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভার গঠন শুধু প্রশাসনিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়, আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেও করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব যেমন বিজেপির রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে, তেমনই কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকাগুলিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফলে মন্ত্রিসভার এই বিন্যাসে একদিকে যেমন ভৌগোলিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা রয়েছে, তেমনই ভোটের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কোন বিধানসভা ও জেলা পেল কতজন পূর্ণমন্ত্রী?

১) দিলীপ ঘোষ: খড়্গপুর সদর (পশ্চিম মেদিনীপুর)।

২) অগ্নিমিত্রা পাল: আসানসোল দক্ষিণ (পশ্চিম বর্ধমান)।

৩) নিশীথ প্রামাণিক: মাথাভাঙা (কোচবিহার)।

৪) অশোক কীর্তনিয়া: বনগাঁ উত্তর (উত্তর ২৪ পরগনা)।

৫) ক্ষুদিরাম টুডু: রানিবাঁধ (বাঁকুড়া)।

৬) স্বপন দাশগুপ্ত: রাসবিহারী (কলকাতা)।

৭) অর্জুন সিং: নোয়াপাড়া (উত্তর ২৪ পরগনা)।

৮) গৌরীশংকর ঘোষ: মুর্শিদাবাদ (মুর্শিদাবাদ)।

৯) অরূপকুমার দাস: সিঙ্গুর (হুগলি)।

১০) দুধকুমার মণ্ডল: ময়ূরেশ্বর (বীরভূম)।

১১) শারদ্বত মুখোপাধ্যায়: বিধাননগর (উত্তর ২৪ পরগনা)।

১২) কল্যাণ চক্রবর্তী: খড়দা (উত্তর ২৪ পরগনা)।

১৩) অজয়কুমার পোদ্দার: কুলটি (পশ্চিম বর্ধমান)।

১৪) দীপক বর্মন: ফালাকাটা (আলিপুরদুয়ার)।

১৫) তাপস রায়: মানিকতলা (কলকাতা)।

১৬) মনোজকুমার ওঁরাও: কুমারগ্রাম (আলিপুরদুয়ার)।

১৭) শংকর ঘোষ: শিলিগুড়ি (দার্জিলিং)।

১৮) জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়: সিউড়ি (বীরভূম)

প্রতিমন্ত্রীরা কোন জেলার ও কোন বিধানসভার প্রতিনিধি?

১) জুয়েল মুর্মু: হবিবপুর (মালদা)।

২) আনন্দময় বর্মন: মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি (দার্জিলিং)।

৩) অশোক দিন্দা: ময়না (পূর্ব মেদিনীপুর)।

৪) শান্তনু প্রামাণিক: ভগবানপুর (পূর্ব মেদিনীপুর)।

৫) উমেশ রাই: হাওড়া উত্তর (হাওড়া)।

৬) পূর্ণিমা চক্রবর্তী: শ্যামপুকুর (কলকাতা)।

৭) কৌশিক চৌধুরী: রায়গঞ্জ (উত্তর দিনাজপুর)।

৮) দিবাকর ঘরামি: সোনামুখী (বাঁকুড়া)।

৯) কলিতা মাজি: আউসগ্রাম (পূর্ব বর্ধমান)।

১০) গার্গী দাস ঘোষ: কান্দি (মুর্শিদাবাদ)।

১১) দীপঙ্কর জানা: কাকদ্বীপ (দক্ষিণ ২৪ পরগনা)।

১২) সুমনা সরকার: বলাগড় (হুগলি)।

১৩) হরেকৃষ্ণ বেরা: তমলুক (পূর্ব মেদিনীপুর)।

১৪) বিশাল লামা: কালচিনি (আলিপুরদুয়ার)।

১৫) মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র: বর্ধমান দক্ষিণ (পূর্ব বর্ধমান)।

১৬) নাদিয়ার চাঁদ বাউরি: পারা (পুরুলিয়া)।

১৭) বিরাজ বিশ্বাস: করণদিঘি (উত্তর দিনাজপুর)।

১৮) ভাস্কর ভট্টাচার্য: শ্রীরামপুর (হুগলি)।

১৯) অমিয় কিস্কু: নয়াগ্রাম (ঝাড়গ্রাম)।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

আরও খবর