নিজের নাম ভুললেও নন্দীগ্রাম কে ভুলবেন না, পরে কুঁড়ে ঘর বানিয়ে নেবেন মমতা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিজের নাম ভুললেও নন্দীগ্রাম কে ভুলবেন না, এদিন নন্দীগ্রামের বুকে দাঁড়িয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই লড়ছেন, একদা ছায়াসঙ্গী শুভেন্দু অধিকারী এখন তাঁর প্রতিপক্ষ। আর এই নির্বাচনে লড়াই করার জন্যেই বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছে নন্দীগ্রামে। নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের বটতলা লাগোয়া এলাকায় প্রাক্তন সেনাকর্মী ফারুখ আহমেদের বাড়ি। এই বাড়ির দোতলা ও তিনতলা ভাড়া নেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য।

আরও পড়ুনঃ সংঘাত কেন্দ্র বনাম রাজ্যের! স্ট্যান্ডরোড অগ্নিকাণ্ডে রেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের দমকলের।

গত ১৮ জানুয়ারি নন্দীগ্রামেরই তেখালি মাঠে জনসভা করেন মমতা। সেখানে তিনি নন্দীগ্রাম থেকেই ভোটে লড়তে চান বলে ইচ্ছে প্রকাশ করেন। এরপর গত শুক্রবার দলের প্রার্থিতালিকা ঘোষণার সময় মমতা জানিয়ে দেন, তিনিই নন্দীগ্রামে দলের প্রার্থী। তারপর আজই প্রথমবার নন্দীগ্রামে এলেন মমতা। বুধবার নন্দীগ্রাম থেকেই হলদিয়ায় গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন তিনি। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে নন্দীগ্রামে এদিন কর্মিসভা করেন মমতা।

নিজের নাম ভুললেও নন্দীগ্রাম কে কখনই ভুলবেন না বলে এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন দলের কর্মিসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা ব্যাখ্যা করেন কেন তিনি নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে আমি কেন দাঁড়ালাম? ভবানীপুর থেকেও তো দাঁড়াতে পারতাম। শেষবার যখন এসেছিলাম সেদিন কথা দিয়েছিলাম। আপনাদের উদ্দীপনা দেখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভুলতে পারি নিজের নাম, ভুলব নাকো নন্দীগ্রাম। সিঙ্গুর না হলে নন্দীগ্রামের আন্দোলনের তুফান আসত না। মাথায় ছিল হয় সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়াব।”

নন্দীগ্রামের কথা প্রসঙ্গে সেদিনের স্মৃতি রোমন্থন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ফিরে যান ২০০৭ সালের ১৪ই মার্চের ঘটনায়। তিনি বলেন, “১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে গুলি চলেছিল। অসুস্থ ছিলাম, হাসপাতাল থেকে চলে এসেছিলাম। কোলাঘাটে আমার গাড়ির উপর হামলা, সেদিন কেউ ছিল না। রাজ্যপাল ফোন করে বললেন, আপনাকে পেট্রোল বোমা মারার চক্রান্ত চলছে। আনিসুরের বাইকে লুকিয়ে তমলুক হাসপাতালে যাই। আনিসুর জেলে আছে, কে জেলে ভরেছে, নাম বলব না। সিপিএম ভাবতে পারেনি, আমি স্কুটারে করে পৌঁছে যাব। তারপর চণ্ডীপুর হয়ে নন্দীগ্রামে ঢুকেছিলাম, শুরু হয়েছিল অকথ্য অত্যাচার। ১০ নভেম্বর সূর্যোদয়ের নামে ১০ জনের দেহ লোপাট করা হল। ভাঙাবেড়া থেকে সোনাচূড়া, একই অত্যাচার হয়েছে।”

এরপর মমতা ফেরেন আজকের প্রসঙ্গে। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘১ এপ্রিল এখানে ভোট আছে। ওদের এপ্রিল ফুল করে দেবেন। টাকা দিলে, টাকাটার কী করতে হয় আপনারা জানেন। কিন্তু ভোটের বাক্সে এপ্রিল ফুল করে দেবেন। ২ মে যে দিন ফল বেরোবে, সে দিন বুঝতে পারবে ওরা।’’ নন্দীগ্রামের জনতার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সেদিনও আমি আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, আজও আছি। আপনারা দলের সম্পদ, আপনারা বললে চলে যাব। মনোনয়ন জমা দেব না। কিন্তু আপনারা বললে আমি কাল মনোনয়ন দেব।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত