নজরবন্দি ব্যুরোঃ আগামি ২৭ মার্চ থেকে রাজ্যে শুরু ভোট গ্রহণ। মোট ৮ দফায় ২৯৪ টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ভোটাররা। এই নির্বাচনকে কার্যত নিখুঁত এবং সন্ত্রাস মুক্ত করার প্রচেষ্টায় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই দফায় দফায় ঘুরে গেছেন বাংলা থেকে। নির্দেশ দিয়ে গেছেন সর্বস্তরের প্রশাসনিক কর্তাদের। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ভোট করাতে তৎপর নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে এতটা কড়াকড়ি সম্ভবত আগে দেখেনি রাজ্য। এই নির্বাচনে সেক্টর অনুযায়ী বুথ অনুযায়ী বাহিনী প্রস্তুত করছে নির্বাচন কমিশন। বুথ পিছু বরাদ্দ শতাধিক জওয়ান!!
আরও পড়ুনঃ ফ্রি রেশনের হোম ডেলিভারি! চমকপ্রদ ইস্তেহারে মাস্টারস্ট্রোক মমতার।
কমিশন সূত্রে খবর শুধু স্পর্শ্বকাতর বুথ নয়, সব বুথেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকবে। প্রথম দফায় ভোট গ্রহন হতে চলেছে ৩০ টি আসনের জন্যে। এই ৩০ আসনে মত বুথ অর্থাৎ ভোট গ্রহন কেন্দ্রের সংখ্যা ৬৫৭। এই দফায় সেক্টর পিছু ১৪ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল বুথ পিছু কেন্দ্রীয় বাহিনীর বহর দেখলে মনে হবে যেন ভোট গ্রহন কেন্দ্র নয় যুদ্ধক্ষেত্র!
কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ৩০ আসনে ভোট গ্রহণের জন্যে তাঁরা ৭৩২ কোম্পানি কেন্দীয় বাহিনী প্রয়োজন বলে মনে করছে। এবার বিষয় হল এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীতে ৮০ থেকে ২২৫ জন জওয়ান থাকেন প্রয়োজনের ভিত্তিতে। সুতরাং সব থেকে কম সংখ্যায় ধরলেও বুথ পিছু অন্তত ১০০ জন জওয়ান থাকবেন অতন্দ্র পাহারায়। সূত্রের খবর শুধু বুথ বা তাঁর আশেপাশে নয়। এলাকার মধ্যে কাউকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে কিনা তাও নজরে রাখবে বাহিনী।
কমিশন সূত্রের দাবি সবথেকে করাকড়ি করা হচ্ছে পঞ্চম দফায়। এই দফাতে মোট আসন সংখ্যা ৪৫। এই ৪৫ টি আসনে ভোট করানোর দায়িত্ব থাকবে ৯৫৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোট নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে থাকছে সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, বিএসএফ, এসএসবি, আইটিবিপি জওয়ানরা।
উল্লেখ্য, রাজ্যে নজিরবিহীন ভাবে ৮ দফায় নির্বাচন করানোর জন্যে নির্বাচন কমিশনের রীতিমত সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন পুরোপুরি বিজেপি শীর্ষ নেতাদের কথায় পরিকল্পিত ভাবে ভোট সাজানো হয়েছে। অভিযোগের পাশাপাশি চেনা মেজাজে তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়ে দেন, “যতই ষড়যন্ত্র করুন, হারিয়ে ভূত করে দেব। খেলা হবেই…”



