পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের তারিখে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এতদিন ১ বৈশাখকে কেন্দ্র করে যে দিনটি পালন করা হতো, এবার তার পরিবর্তে ২০ জুনকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
মন্ত্রী জানান, ২০ জুন ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিনই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বকে সামনে রেখেই ভবিষ্যতে ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের নতুন তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি একাধিক প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর জন্য জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ৩১.৯০৫ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের পক্ষ থেকে আরও ১.৫৩ একর জমি সীমান্ত চৌকি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের জন্যও প্রায় ২০ একর জমি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
খাদ্য সহায়তা প্রকল্প নিয়েও বড় ঘোষণা করেছে সরকার। ‘মা ক্যান্টিন’-এর নাম বদলে এখন ‘মা আহার’ করা হয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা ৩৯০টি কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১১০টি নতুন কেন্দ্র যুক্ত করা হবে। ফলে গোটা রাজ্যে ‘মা আহার’ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে ৫০০-তে পৌঁছবে।
এদিন সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে নতুন একটি হেল্পলাইন পরিষেবারও সূচনা করা হয়েছে। ‘আপনার সরকার, আপনার পাশে’ নামে এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি সরকারের কাছে নিজেদের সমস্যা জানাতে পারবেন।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ৮২৮২০৮২৮২০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ বা সমস্যা জানানো যাবে। সোম থেকে শনিবার, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু থাকবে। পাশাপাশি ই-মেলের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এদিন গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি নিয়ে। তিনি জানান, নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
একইভাবে, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে উপভোক্তাদের স্থানান্তরের কাজ সম্পূর্ণ হলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাও বন্ধ হয়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নতুন প্রকল্পগুলির পূর্ণ বাস্তবায়নের পর একই ধরনের একাধিক প্রকল্প একসঙ্গে চালানোর প্রয়োজন থাকবে না।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের নতুন তারিখ, ‘মা আহার’-এর সম্প্রসারণ, বিএসএফকে জমি প্রদান এবং নতুন হেল্পলাইন চালুর মতো একাধিক সিদ্ধান্তকে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক রূপরেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে এই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়নের গতির দিকে।



