বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে ফের বড়সড় ইঙ্গিত দিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টে পুরনো নির্দেশ বহাল রেখে স্পষ্ট করে দেওয়া হল— বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ রাজ্য সরকারকেই মেটাতে হবে, এবং তা মার্চ মাসের মধ্যেই। শুনানির সময় রাজ্যের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জানান, ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর দিকেই এগোচ্ছে রাজ্য। ফলে কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান আসন্ন বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
গত বছর ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। প্রথমে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাজ্যকে বকেয়া ডিএ-র ৫০ শতাংশ দিয়ে দিতে হবে। কিন্তু তখন রাজ্যের পক্ষ থেকে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জানিয়ে দেন, ওই পরিমাণ অর্থ দেওয়া এখনই সম্ভব নয়। ৫০ শতাংশ ডিএ মেটাতে গেলে রাজ্যের প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। সেই যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে আদালত অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ ছ’সপ্তাহের মধ্যে মেটানোর নির্দেশ দেয়।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা সেই ডিএ পাননি। পরে রাজ্য সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরও ছ’মাস সময় চাওয়া হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই গত ৪ অগস্ট থেকে বিচারপতি করোল ও বিচারপতি মিশ্রের বেঞ্চে টানা শুনানি শুরু হয়। একাধিক দিনের শুনানির পর গত ৮ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত ছিল।
বৃহস্পতিবার সেই মামলার রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, ১৬ মে-র পুরনো নির্দেশই বহাল থাকবে। আদালত আবারও স্পষ্ট করে বলে, মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। একবার আইন কার্যকর হলে সরকার নিজের সুবিধামতো তা অমান্য করতে পারে না। ফলে বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ রাজ্য সরকারকে দিতেই হবে।
একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত জানায়, বকেয়া ডিএ-র বাকি ৭৫ শতাংশ কী ভাবে এবং কতগুলি কিস্তিতে মেটানো হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হবে। অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের এই কমিটি রাজ্যের আর্থিক অবস্থান, কর্মচারীদের প্রাপ্য এবং কিস্তিতে অর্থপ্রদানের রূপরেখা খতিয়ে দেখে সুপারিশ করবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে এক দিকে যেমন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা মার্চ মাসেই অন্তত আংশিক বকেয়া ডিএ পাওয়ার পথে এগোলেন, তেমনই অন্য দিকে বাকি অর্থ পাওয়ার লড়াইও একটি স্পষ্ট কাঠামোর মধ্যে ঢুকল। এখন নজর থাকবে— চার সদস্যের কমিটি কত দ্রুত রিপোর্ট দেয় এবং রাজ্য সরকার সেই সুপারিশ বাস্তবায়নে কতটা সক্রিয় হয়।



