নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্য কমিটির পর জেলা সভাপতি পদে বিরাট বদল এনে একেবারেই সাংগঠনিক স্তরে খোলনলচে বদলে ফেলেছে বঙ্গ বিজেপি। এতে ক্ষোভের আগুন যেন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। পাঁচ বিধায়কের পর এবার বিজেপির হোয়াটসঅ্যাাপ গ্রুপ ছাড়লেন বাঁকুড়ার চার বিধায়ক। এমত অবস্থায় সোমবারেই ক্ষোভ প্রশমনে বঙ্গ বিজেপির গুরত্বপূর্ণ বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় নেতা বিএল সন্তোষের।
আরও পড়ুনঃ বুদ্ধের ফোন অশোককে, জানালেন বামফ্রন্টের নেতৃত্ব তাঁকেই দিতে হবে
বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের সাংগঠনিক প্রসারের জন্য মুরলীধর সেন লেনের চাবি দিলীপ ঘোষের হাত থেকে সুকান্ত মজুমদারের হাতে তুলে দিয়েছেন দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের নেতারা। এরপরেই নিজের টিম গোছাতে বিশেষ পদক্ষেপ নিলেন রাজ্য সভাপতি। রাজ্য কমিটিতে রদবদল ঘটিয়ে যেমন আনা হল নতুন মুখ। তেমনই বাদ পড়লেন পুরাতন বিজেপির নেতারা। সেই তালিকায় প্রথমেই ছিলেন সায়ন্তন বসু। সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। সায়ন্তন বসু ছাড়লেন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। সেদিন সন্ধ্যাতেই তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন।

ক্ষোভের আগুন ছড়াল দ্বিতীয় ভাগে যখন জেলা সভাপতি পদে বিরাট রদবদল আনল গেরুয়া শিবির। প্রায় ৩০ টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতিদের অপসারিত করে আনা হয়েছে নতুন মুখকে। তখন থেকে যেন পদ্ম শিবিরের মধ্যে ক্ষোভের আগুন একেবারে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। প্রথম বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়লেন উত্তর ২৪ পরগণা এবং নদীয়ার পাঁচ বিধায়ক। এর মধ্যে রয়েছেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কির্তনীয়া, গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর, হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার, রাণাঘাটের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী এবং কল্যাণীর বিধায়ক অম্বিকা রায়। পাঁচ বিধায়কের থেকে বিজেপির দূরত্ব যেন মতুয়াদের ক্রমবর্ধমান বুলে মনে হচ্ছিল।
এরপরেই বিজেপিতে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেন বাঁকুড়ার চার বিধায়ক। তাঁরা হলেন,বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা, ওন্দার বিধায়ক অমরনাথ শাখা, সোনামুখীর বিধায়ক দিবাকর ঘরামি এবং ইন্দাসের বিধায়ক নির্মল ধাড়া। বিজেপির অন্দরের খবর বাঁকুড়ার সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদে সুনীল মণ্ডল এবং বিষ্ণুপুরের জেলা সাংগঠনিক পদে বীলেশ্বর সিংহকে আনার পরেই পাঁচ বিধায়ক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা নাকি এমনটাও বলেছেন দুই জনকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দিলে আরও দুর্বল হবে বিজেপি।
ক্ষোভ প্রশমনে বঙ্গ বিজেপির গুরত্বপূর্ণ বৈঠক, বিশেষ দাওয়াই দেবেন কেন্দ্রের নেতারা

দলের অন্দরের ক্ষোভ থামাতে মাঠে নামছে রাজ্য বিজেপির নেতারা। সোম্বারেই রয়েছে বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্য কমিটির সমস্ত সদস্যদের। উপস্থিত থাকার কথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের। কেন্দ্রীয় নেতার দেওয়া টোটকাতেই কাজ করতে চায় রাজ্য স্তরের নেতারা। বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের কোন টোটকা দিয়ে স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে পারবে গেরুয়া শিবির? তা দেখার রয়েছে।



