পারদ আরও নামছে, শীতের দাপট বাড়ছে। রাজ্যের ৯ জেলায় ‘শীতল দিনের’ সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া দফতর। দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের অনেকটা নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশা বাড়বে—ফলে সকাল ও সন্ধ্যায় যাতায়াতে ভোগান্তির আশঙ্কা। উত্তরবঙ্গের উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহবিদরা। আগামী কয়েক দিন জুড়েই বাংলাজুড়ে বজায় থাকতে পারে কনকনে ঠান্ডার স্পেল।
সোমবার Alipur Weather Office জানায়, উত্তরবঙ্গের মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় শীতল দিনের পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। আঞ্চলিক আধিকারিক হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের মতে, উত্তরবঙ্গে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪–৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে এই পতন ৩–৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। ফলে দিনের বড় অংশ জুড়েই ঠান্ডার অনুভূতি তীব্র থাকবে।



উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাসও রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে সোমবার বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিংয়ের উঁচু পার্বত্য অঞ্চল—সান্দাফুক, ঘুম, ধোত্রে ও চটকপুরের মতো এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দার্জিলিং, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে কুয়াশার দাপট বাড়বে। কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের নীচে নেমে আসতে পারে বলে সতর্কতা জারি।
দক্ষিণবঙ্গেও কুয়াশা ঘন হওয়ার ইঙ্গিত। মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ঘন কুয়াশার সতর্কবার্তা রয়েছে। কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান-সহ সংলগ্ন এলাকায় ভোর ও রাতে কুয়াশা বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা অনেকটা নেমেছে; আরও প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমার সম্ভাবনা রয়েছে বিভিন্ন জেলায়। তবে পরবর্তী ৩–৪ দিনে তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।
আবহবিদদের মতে, ওড়িশা উপকূলে তৈরি বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। এর জেরেই কুয়াশার ঘনঘটা বাড়বে। গোটা বাংলায় আগামী ৫–৭ দিন জমিয়ে শীতের স্পেল বজায় থাকতে পারে।


দেশের অন্য প্রান্তেও শীতের প্রকোপ। রাজধানী দিল্লি-সহ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও রাজস্থানে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে। দিল্লিতে ঘন কুয়াশার চরম সতর্কতা, একই ছবি ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানাতেও।








