ভোটের মুখে গ্রামবাংলার কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিল রাজ্য সরকার। যেখানে সদ্য পেশ হওয়া কেন্দ্রীয় বাজেটে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে কোনও ঘোষণাই নেই, সেখানে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে ‘মহাত্মাশ্রী’ প্রকল্পে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই সিদ্ধান্তে গ্রামাঞ্চলের শ্রমিক ও কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
১০০ দিনের কাজের প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য–কেন্দ্র সংঘাতের কেন্দ্রে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে ‘মহাত্মা গান্ধী’-র নাম বাদ দেওয়া নিয়ে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের আপত্তি উপেক্ষা করেই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হয়। তার প্রতিবাদে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের ধাঁচেই নিজেদের প্রকল্পের নাম বদলে ‘কর্মশ্রী’ থেকে ‘মহাত্মাশ্রী’ করে। রাজ্যপালের অনুমোদনক্রমে গত ডিসেম্বর থেকেই এই নতুন নাম কার্যকর হয়েছে, সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে কর্মদিবসের সুযোগও।


এই আবহেই ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কী ঘোষণা হয়, সেদিকেই তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক মহল। বৃহস্পতিবার বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, ‘মহাত্মাশ্রী’ প্রকল্পে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে আরও বেশি শ্রমিক ও কৃষক কাজের সুযোগ পাবেন এবং নির্দিষ্ট কর্মদিবসের বিনিময়ে হাতে আসবে বাড়তি অর্থ।
গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। অথচ সদ্য পেশ হওয়া কেন্দ্রীয় বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ তো দূরের কথা, কোনও ঘোষণাই করেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই শূন্যতার মধ্যেই রাজ্যের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। রাজ্যের অভিযোগ, কাজ করিয়েও কেন্দ্র বঞ্চিত করছে দরিদ্র শ্রমিক ও কৃষকদের। এই দাবিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লির রাজপথে আন্দোলনেও নেমেছে। কোনও সুরাহা না হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ঘোষণা করেছিলেন—এবার থেকে কেন্দ্রের উপর নির্ভর না করে রাজ্যের কোষাগার থেকেই কাজের টাকা দেওয়া হবে। সেই নীতির বাস্তব রূপই ‘মহাত্মাশ্রী’ প্রকল্প।


কেন্দ্রীয় বাজেটে যখন গ্রামবাংলার কর্মসংস্থান নিয়ে কার্যত নীরবতা, তখন অন্তর্বর্তী বাজেটে ১০০ দিনের কাজে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে স্পষ্ট বার্তা দিল রাজ্য—গ্রামীণ অর্থনীতি ও শ্রমিকদের পাশে থাকার রাজনীতি থেকে তারা সরছে না। ছাব্বিশের ভোটের আগে এই ঘোষণা যে গ্রামবাংলায় বড় প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রায় সকলেই একমত।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



